জাকসুর প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্টের দাবিতে অনশনে এক ভিপি প্রার্থী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করানোর দাবিতে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন এক শিক্ষার্থী। আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় তিনি অনশনে বসেন।
অনশনে বসা শিক্ষার্থী মো. রাব্বি হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি জাকসুর ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী।
আজ দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির কক্ষে রাব্বি হাসান অনশনে বসেছেন। তাঁর সামনে দুটি প্ল্যাকার্ড রয়েছে। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জাকসু নির্বাচনের প্রত্যেক প্রার্থীকে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করাতে হবে’; আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘ডোপ টেস্টের দাবিতে অনশন কর্মসূচি’।
অনশনের বিষয়ে রাব্বি হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাকসুর নির্বাচন কমিশন যে আচরণবিধি দিয়েছে, সেখানে উল্লেখ আছে মাদকাসক্ত কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু ওই বিধিতে একটি ফাঁক রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ দেওয়া হলে তাঁদের ডোপ টেস্ট করানো হবে। জাকসুর খসড়া প্রার্থী তালিকায় ২৫৬ জনের নাম রয়েছে। এখন কীভাবে বুঝব কে মাদকাসক্ত আর কে মাদকাসক্ত না?’
রাব্বি আরও বলেন, ‘সব প্রার্থীকে তো আমরা চিনি না। অনেকে গোপনে মাদক সেবন করে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অভিযোগ না দিলে তাঁর ডোপ টেস্ট করানো হবে না। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই সব প্রার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে ডোপ টেস্ট করাতে হবে, এটাই আমার দাবি। এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
এ বিষয়ে জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘অনশনে না বসে আমি ওই শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানাব নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন দিতে। সেটি আমরা পরবর্তী সভায় আলোচনা করব। আর আচরণবিধিতেই আছে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তের তথ্য পেলে নির্বাচন কমিশন সেই প্রার্থীকে ডোপ টেস্ট করাবে।’