বেলা পৌনে ১১টার দিকে দেওহাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের জেলা ও মির্জাপুরের হাইওয়ে পুলিশ সেখানে যৌথভাবে তল্লাশিচৌকির সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। যানবাহনের গতি রোধ করতে সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে ওই সাইনবোর্ড রাখা হয়েছে। ঢাকামুখী বাস এলেই পুলিশ তা তল্লাশি করছে। তবে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের দিকে কোনো বাসকে তল্লাশি করতে দেখা যায়নি।

ওই তল্লাশিচৌকিতে আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন এই প্রতিবেদক। এ সময়ের মধ্যে হানিফ পরিবহনের জামালপুর থেকে ঢাকাগামী একটি বাস ও পাবনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি বাস তল্লাশিচৌকি পার হয়ে যায়। এর মধ্যে পাবনা থেকে আসা বাসটি থামিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। ওই বাসের যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করেন পুলিশের সদস্যরা। এ সময় বাসের চালক ও চালকের সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়।

বেলা ১১টার দিকে ১০ পুলিশ সদস্যকে ওই চেকপোস্টে অবস্থান করতে দেখা যায়। তল্লাশির ব্যাপারে জানতে চাইল মির্জাপুর ট্রাফিক পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে পুলিশ তল্লাশি করছে। তবে অন্য দিনের চেয়ে যানবাহনের সংখ্যা কম বলে জানান তিনি।

এর আগে সকাল থেকে মহাসড়কের মির্জাপুর পাকুল্যা, শুভুল্যা, কুর্ণী, মির্জাপুর ও ধেরুয়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কম। মহাসড়কের নিয়মিত যাতায়াতকারী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য সপ্তাহের শুক্রবার সকালে প্রতি মিনিটে ওই সড়কের উভয় দিকে ১২ থেকে ১৫টি যান চলাচল করতে দেখা যায়। তবে আজ সড়কের উভয় দিকে প্রতি মিনিটে তিন-চারটি যানও দেখা যাচ্ছে না। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশের কারণে সড়কে যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীসংখ্যা কমেছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানী এলাকার রিকশাচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,  ‘গাড়ি খুব কম আইজকা। গাড়ি দেখাই যায় না। বাস, মোটরসাইকেল, পিকআপ—সবই কম কম চলতেছে। কালক্যা মনে হয় সমাবেশ হইব। এই লাইগা গাড়িঘোড়া কমতে পারে।’