মাদক সেবনের দায়ে সাজা পাওয়া ২ নেতাকে নিয়েই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি
মাদক সেবনের দায়ে সাজা পাওয়া দুই নেতাকে নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সাজাপ্রাপ্ত একজনকে সাধারণ সম্পাদক ও অন্যজনকে সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রানীশংকৈল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি, মনোয়ার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ও মাসুদ রানাকে সহসভাপতি করা হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া মনোয়ার হোসেন ২০২১ সালের কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন। ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর উপজেলার পাটগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। তখন সেখানে ১৮২টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। এ সময় পাশে গাঁজা সেবনের সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মনোয়ার হোসেন, মাসুদ রানা ও সালাউদ্দীন নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ নিয়ে ওই বছরের ১২ অক্টোবর ‘মাদক সেবনের দায়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ তিন যুবকের কারাদণ্ড’ শিরোনাম প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় তাঁদের তিন দিন কারাগারে থাকতে হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবক দল ওই দুই নেতাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে জেলা কমিটি।
এ বিষয়ে সহসভাপতি পদ পাওয়া মাসুদ রানার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁরা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
মনোয়ার হোসেন বলেন, দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের আটক করে মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশে দেয়। পরে সাজা হলেও জেলা কমিটি তদন্ত করে মাদকের সম্পৃক্ততা পায়নি। দুই মাস পর তাঁদের স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়। তিনি বলেন, দল পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা কমিটি তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছে।
এদিকে মাদক সেবনের দায়ে সাজা পাওয়া দুই নেতাকে পদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। রানীশংকৈল পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পলাশ চৌধুরী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত লোকজনকে নিয়েই এখন দল চলছে। এখানে আমার বলার কিছু নেই।’
সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হাসিম রেজা বলেন, ‘যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দল জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে, সেখানে মাদক সেবনের জন্য সাজা পাওয়াদের কমিটিতে রাখা মোটেই কাম্য নয়। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সুষ্ঠুভাবে দল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নেতার প্রয়োজন ছিল। তেমন নেতা না পাওয়ায় তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তখন কিছু অভিযোগ থাকলেও এখন তা নেই।