গ্রেপ্তার–আতঙ্কে ও তল্লাশির ভয়ে শ্রীপুর–কাপাসিয়ার বিএনপি নেতারা বাড়িছাড়া

গাজীপুর জেলার মানচিত্র

গ্রেপ্তার এবং তল্লাশির আতঙ্কে গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বাড়ি ছেড়েছেন। এরই মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ১৩ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ বানচালের উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে।

আজ সোমবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল আলম বলেন, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার–আতঙ্কে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাড়িছাড়া। বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, অথচ অনেকে মামলার আসামি নন। তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে যে মামলাগুলো করা হয়েছে, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। ঢাকার গণসমাবেশের আগে হয়রানি করতেই এসব মামলা করা হয়েছে।

কাপাসিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, যেহেতু মামলা হয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে আইন অনুযায়ী, ব্যবস্থা নেবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে পুলিশ কাউকে অহেতুক হয়রানি করছে না।

পুলিশ ও বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৯ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীপুরে দুটি ও কাপাসিয়ায় একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসব মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন জামিন পেয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সহসম্পাদক এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, নেতা-কর্মীদের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। গায়েবি মামলায় আসামি করে বিএনপির নেতাদের ১০ তারিখের গণসমাবেশ উপলক্ষে সমন্বয়ের কাজে চরমভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি রাকিবুল আলম বিল্লাল বলেন, ৩ ডিসেম্বর রাতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। মামলায় আসামি না হয়েও তাঁকে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। একই ইউনিয়নের বিএনপির প্রচার সম্পাদক বদিউল আলম দাবি করেন, ৩ ডিসেম্বর রাতে তাঁর বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। সেই রাতে তিনিও বাড়িতে ছিলেন না। পুলিশ পরিবারের লোকজনের কাছে জানতে চান তিনি কোথায় আছেন।

কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, তিনি মামলার আসামি না হলেও তাঁকে খুঁজতে রোববার রাতে তাঁর বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল।

কাপাসিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জুনায়েদ হোসেন বলেন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।