গাজীপুরে মাঠে নেই বিএনপির নেতারা
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলেও মাঠে নেই বিএনপি। নগরজুড়ে দলটির নেতাদের কোনো ধরনের প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। কর্মীদের মধ্যেও নেই কোনো আগ্রহ।
এদিকে তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই নগরজুড়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর পক্ষে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুর ও বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নেমে গেছেন প্রচারণায়। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের কোনো প্রচারণা লক্ষ করা যায়নি।
নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ব্যালটে করার সিদ্ধান্ত নিলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) করবে সিটি নির্বাচন। তবে ব্যালট বা ইভিএম কোনোটিতেই আগ্রহ নেই বিএনপির।
কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। যদি কোনো কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়, তবে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইব।শওকত হোসেন সরকার, সদস্যসচিব, গাজীপুর মহানগর বিএনপি
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির নেতারা। তাঁরা বলছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত, আগে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয়–নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কোনো নির্বাচনে অংশ নিলে এর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আগে থেকেই গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এম এম নিয়াজ উদ্দিনের পক্ষে ব্যানার–পোস্টারসহ প্রচার–প্রচারণা চালানো হচ্ছে নগরজুড়ে। ৪ এপ্রিল শহরের হাবিবুল্লাহ সরণিতে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেন দলটির জেলা নেতারা।
ওই সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা মনোয়ার হোসেন, মেট্রো সদর থানার সভাপতি জহিরুল ইসলাম সরকার, যুব সংহতির মহানগর সভাপতি মো. জাকির হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা সালামত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আগের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে দল। তবে কেন্দ্র চাইলে প্রার্থী হতে রাজি আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকার এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শওকত হোসেন সরকার।
শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। যদি কোনো কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়, তবে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইব।’
হাসান উদ্দিন সরকারের ভাষ্যও একই। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের বিষয়ে দল আমাদের এখনো কিছু জানায়নি। ফলে নির্বাচনের প্রচারণা বা অংশগ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না।’
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মারিয়ালি এলাকার ভোটার ইমরান হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাবাড়ি এলাকার ভোটার নাজমুল ইসলাম এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সিরাজুল ইসলামের ভাষ্য একই। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা চান, নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিক এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হোক।
২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপির নেতা–কর্মীরা বলেন, প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির প্রয়াত নেতা এম এ মান্নান। জয়ী হওয়ার পর তাঁকে আইনি জটিলতায় ফেলে সরকার। এতে তিনি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান ১৮ মাস।
জেলে কাটাতে হয় ২২ মাস। ২০১৮ সালে জুনে অনুষ্ঠিত হয় সিটির দ্বিতীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন হাসান উদ্দিন সরকার। কিন্তু তিনি নির্বাচনে হেরে যান সরকারদলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ মে। নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ এপ্রিল, বাছাই ৩০ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৯ মে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৩।