স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৯ নভেম্বর গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা নয়নের মিয়ার বাড়ি থেকে ফিরছিল ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহনকারী গাড়িটি। গাড়িটি আড়াইহাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বহরটি গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ওই গাড়িবহরে এ হামলা চালান। মারধর করা হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদসহ গাড়িতে থাকা সবাইকে। এ সময় ছাত্রদল নেতাদের বহনকারী গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়।

আড়াইহাজার পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় ছাত্রদল নেতাদের বহনকারী গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়েছে। মারধর করা হয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বহরে থাকা সব নেতা-কর্মীকে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ওমর সানি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই দফায় হামলা হয়েছে। প্রথমে রামচন্দ্রী এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের গাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়ে। আমরা তখন দ্রুত আড়াইহাজার বাজার এলাকায় চলে আসি। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পেছন পেছন এসে আড়াইহাজার বাজারে আবার গাড়িতে হামলা করে। এ সময় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদকে মারধর করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে আবার তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। হামলায় সাইফ মাহমুদের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। মারধর করা হয়েছে ছাত্রদলের সভাপতিসহ অন্যদেরও।’

এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই জানিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রামচন্দ্রী এলাকায় ছাত্রদল নেতাদের গাড়িবহরের সঙ্গে স্থানীয় রিকশাচালকদের দ্বন্দ্ব হয়েছিল। পরে তারা আড়াইহাজার বাজার এলাকায় এলে সেখানকার রিকশাচালকরা আবার তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। পরে তাকে আমি উদ্ধার করে নিজের টাকায় প্রাইভেট কার ভাড়া করে ঢাকা যাওয়ার ব্যবস্থা করি। আবার যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে কারণে তাকে আমি নিজে রূপগঞ্জ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি।’

এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে বুধবার রাতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদল। এ সময় তাঁরা হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন।