ভালো কাজ করলে পরের পাঁচ বছরও আপনারা আমাকে চাইবেন: নায়াব ইউসুফ
‘এখন আমার জন্য আপনাদের একটু কষ্ট করতে হবে। এরপর আমি এমপি হলে তার পরদিন থেকেই আপনাদের জন্য কষ্ট করা শুরু করব। আগামী পাঁচ বছর ভালো কাজ করলে পরের পাঁচ বছরও আপনারা আমাকে চাইবেন, আমি জানি।’
আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তুলা গ্রামে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইবনে ইউসুফ।
তুলা গ্রামে উঠান বৈঠকে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আমি তো ফরিদপুরে আছিই আপনাদের সুখ–দুঃখে। সুখে–স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে হলে আমাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। আপনারা সবাই আপনাদের প্রতিবেশীদের বলবেন, এবার আমাদের দেশের মুক্তির, ফরিদপুরের মুক্তির একটাই প্রতীক—সেটা হলো ধানের শীষ।’
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নির্বাচনী প্রচার সভায় কৈজুরী ইউনিয়নের আলালপুর এলাকায় নারী সমাবেশে বক্তব্য দেন নায়াব ইউসুফ। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি কামাল ইউসুফের মেয়ে, সব সময় আপনাদের পাশে আছি। আমি এ নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারলে আগামী পাঁচ বছর আপনাদের জন্য কাজ করব। আমার কাজ দেখে পরবর্তীতে আমার মূল্যায়ন করবেন।’
ভোটারদের উদ্দেশে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘অনেকে অনেক প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করবে আপনাদের। আপনারা তাতে কান দেবেন না। ভোটের দিন সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আগে নিজের ভোট দিয়ে আসবেন। দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে আবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। আমার বাবা আপনাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। আজ বাবা নেই, কিন্তু আমি তো আছি, আমার ওপর ভরসা রাখুন।’
নারীদের উদ্দেশে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আমি একজন নারী। একজন নারীই অন্য নারীকে ঠিকমতো বুঝতে পারে। আমি আপনাদের সেবায় সব সময় নিয়োজিত আছি এবং থাকব।’
নায়াব ইউসুফ ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা। তাঁর বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুরে বিএনপির ভিত্তি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সাতবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন নায়াব। ২০২৫ সালে তাঁর মা শায়লা কামাল মৃত্যুবরণ করেন।
রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নায়াব ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাকে এই শক্তি দিয়েছেন। নেতৃত্বের ভার তাই আমার পক্ষে বহন করা সহজ হচ্ছে এবং আমি বহন করতে পারব। পাশাপাশি ফরিদপুরের জনগণ, বাবার বিশাল কর্মীবাহিনী এবং সর্বোপরি আমার পরিবার আমার সঙ্গে আছে। এর পাশাপাশি আমি সব সময় উপলব্ধি করি, বাবা দূর থেকে আমাকে দেখছেন, আমাকে শক্তি–সাহস দিচ্ছেন, প্রেরণা জোগাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবার রাজনৈতিক পরিবার। আমি রাজনীতি দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। আমি পরিবার থেকে রাজনীতি শিখেছি। আমার দাদার গল্প, বাবার রাজনীতির দীক্ষা এই সত্য আমার মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে মানবকল্যাণ, মানুষের সেবা করা এবং বিপদে–আপদে মানুষের পাশে থাকা। সবাই আমার মধ্যে আমার বাবার প্রতিচ্ছবি, আমার পরিবারের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।’
গতকাল শনিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত গণসংযোগ করেন নায়াব। বাড়িতে ফিরে সরাসরি চলে যান নির্বাচন পরিচালনা বুথে। ফরিদপুর পৌরসভা ও ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডের খোঁজখবর নেন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে নায়াবের বাড়ি থেকে নায়াবের গাড়িবহর বের হয় নির্বাচনী গণসংযোগের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য তুলা গ্রাম হলেও সরাসরি সেখানে যাওয়া হলো না তাঁর। পথে যাত্রাবিরতি দিতে হলো দুটি জায়গায়। কৈজুরী ইউনিয়নের আলালপুর এলাকায় দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন এবং নারীদের সমাবেশে বক্তব্য দেন। এরপর তাঁকে যাত্রাবিরতি দিতে হয় আলালপুর ক্লাব ঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এরপর গুচ্ছগ্রাম এক শ ঘর এলাকায় গণসংযোগ শেষে বেলা দুইটার দিকে তিনি তুলা গ্রামের একটি বাড়িতে উঠান বৈঠকে অংশ নেন। বিকেলে সদরের কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বূলখানা বাজারে পথসভার পর সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামে এক নির্বাচনী সভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা।