রেলওয়ে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিশোর মেহেদি হাসান তার দাদি শাহেরা খাতুনের সঙ্গে পাবনার আটমাইল এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পঞ্চগড়ে ফিরছিল। গতকাল বিকেলে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে এসে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন তাঁরা। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ট্রেনটি জাফরপুর রেলস্টেশন অতিক্রম করে হলহলিয়া রেলসেতুতে ঢুকে পড়ে। এ সময় রেলসেতুতে ধাক্কা খেয়ে মেহেদি হাসানের ডান হাতের কবজি ছিঁড়ে সেতুর গার্ডারে আটকে যায়। মেহেদি রেলসেতুর নিচে পড়ে নিখোঁজ হয়। ট্রেনটি রেলসেতু অতিক্রমের পর স্থানীয় লোকজন এসে হাতের কবজি, মানিব্যাগ ও মুঠোফোন দেখতে পান।

এরপর খবর পেয়ে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান ও আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত হলহলিয়া রেলসেতুর নিচে তুলসীগঙ্গা নদীর দুই পাশের আধা কিলোমিটার এলাকায় লাশ খোঁজেন। সন্ধান না পেয়ে পরে অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সকালে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে তুলসীগঙ্গা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

লাশ উদ্ধারের সময় মেহেদি হাসানের চাচা আসাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মেহেদি তার দাদির সঙ্গে পাবনা আটমাইলে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ফেরার পথে হলহলিয়া রেলসেতুতে ধাক্কা লেগে নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে এখানে এসেছেন তাঁরা।

ইউএনও হাবিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে দুই ঘণ্টা নদীতে লাশ উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হয়। পরে আজ সকালে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে মেহেদি হাসানের লাশ উদ্ধার করে।

সান্তাহার রেলওয়ের থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দোলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার প্রায় সাড়ে ১৪ ঘণ্টা পর লাশটি উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর লাশ হস্তান্তর করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন