ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতির কারণে বাকি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেশির ভাগ দিন সময় মতো কার্যালয়ে থাকছেন না বলে অভিযোগ আছে।

দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ইউএনও না থাকায়, অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকমতো চেয়ারে বসেন না। এতেও লোকজন সমস্যায় পড়েছেন।  গত সোমবার দুপুরে দৌলতখান উপজেলার ভূমি কার্যালয়ের সামনে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুল হককে। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাঁর জমির নামজারি করতে দিয়েছেন মাস দুই আগে, যখন উপজেলায় ইউএনও ও এসিল্যান্ড কর্মরত ছিলেন। উপজেলায় ইউএনও বা এসিল্যান্ড না থাকায় এখনো নামজারি হয়নি। 

আজিজুল হকের মতো অনেকেই প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। দৌলতপুর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০২১ সালের নভেম্বরে বদলি হয়ে গেছেন। মাস দুই আগে সেপ্টেম্বরে বদলি হয়েছেন ইউএনও। বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার ইউএনও সপ্তাহের মঙ্গলবার এখানে আসেন। উপজেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে করতে দিন শেষ হয়ে যায়। এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতিতে ভূমি কার্যালয়ে জমি–সংক্রান্ত সব কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ কার্যালয়ে সাধারণত জমির নামজারি, মিস কেস, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি বন্দোবস্ত মামলা, জমির মাপজোখ করা হয়, যা সহকারী কমিশনারের অনুমতি ছাড়া হয় না। 

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের উপজেলার দায়িত্ব পালন করে আরেক উপজেলার দায়িত্ব পালন করা কঠিন।

গত সোমবার দৌলতখান উপজেলার ১৮টি দপ্তরে গিয়ে ১৩ জন কর্মকর্তা ও কার্যালয়ে কর্মরত অনেক অফিস সহায়কের দেখা মেলেনি। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে অফিস থেকে বলা হচ্ছে, তাঁরা বাইরে কাজে আছেন। তবে পাঁচজন  কর্মকর্তাকে পাওয়া গেছে। অনেক কার্যালয়ের দরজা বন্ধ।

উপজেলা পরিষদে আসা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। অনেকে ঢাকায় মিটিং আছে বলে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আসেন মঙ্গলবার, যে দিন ভোলা সদরের ইউএনও দৌলতখানে আসেন। দৌলতখানের মেঘনায় চোরাই পথে তেল নামানো, অতিথি পাখি নিধনসহ সব ধরনের অনিয়ম হচ্ছে দেদারসে। যেন দেখার কেউ নেই।

লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, ইউএনওবিহীন উপজেলা পরিষদে গিয়ে কোনো কাজই হচ্ছে না।

কোনো কর্মকর্তা পাওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। চরফ্যাশন উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন সামলে লালমোহনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন ইউএনও পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চরফ্যাশনের ইউএনও আল নোমান লালমোহন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, কাজের চাপে সপ্তাহে এক দিনও  লালমোহন যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক–ই-লাহী বলেন, ইউএনওর অনুপস্থিতিতে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে সত্য। তবে তিনি চেষ্টা-তদবির করছেন,  উপজেলাগুলোতে দ্রুত ইউএনও যোগ দেবেন।