নগরের ছড়ারপারের বাসিন্দা আয়শা বেগম (৩৫) বন্দরবাজার মোড়ে পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, অসুস্থ ছোট ভাইকে দেখতে টুকেরবাজার যাবেন বলে বাসা থেকে বের হয়েছেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, কোনো অটোরিকশা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘রাতে খবর আসছে ভাইয়ের অবস্থা খুব খারাপ, তাই নিরুপায় হয়ে বাসা থেকে বের হয়েছি। তা না হলে এই পরিস্থিতিতে বাসা থেকে বের হতাম না।’

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সুবিদবাজার মোড়ে টিফিন হাতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন আলী হোসেন (২৫)। তিনি বলেন, বন্দরবাজার করিম উল্লা মার্কেটে মুঠোফোনের একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করেন। নয়টার সময় বাসা থেকে বের হয়েছেন, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে রিকশা এলেও খালি পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আজ সিলেট নগরের অনেক বিপণিবিতান খোলা হয়নি। নগরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ আছে। সিলেটের হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ী আফজল মিয়া বলেন, মার্কেটের বেশির ভাগ দোকান আজ খোলা হয়নি। ধর্মঘটের কারণে যানবাহন না চলায় নগরে মানুষ নেই, কেনাকাটা করবে কে! তিনি বেলা একটা অথবা দেড়টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাবেন বলে জানালেন।

সিলেট জেলায় আজ সকাল-সন্ধ্যা পৃথকভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে দুটি সংগঠন। এর একটি সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, অন্যটি সিলেট জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

এর মধ্যে জেলা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি ধর্মঘট ডেকেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীদের নিরাপত্তাবেষ্টনী লাগানোসহ দুই দফা দাবিতে। আর জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘট ডেকেছে সিলেটে বন্ধ থাকা সব কটি পাথর কোয়ারি চালুসহ চার দফা দাবিতে। এ ছাড়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে গতকাল শুক্রবার থেকে সিলেটের সঙ্গে বিভাগের অপর তিন জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় গতকাল থেকে আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট চলছে।