খুলনায় আলোচিত ‘গ্রেনেড বাবুর’ বাড়িতে অভিযান, ভাই জনি আটক

বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবুর’ সৎভাই মাহামুদুন চৌধুরী (জনি)ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

খুলনায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রনি চৌধুরী বাবু ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’র বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেলে খুলনা নগরের শামসুর রহমান রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তাঁর ভাই মাহামুদুন চৌধুরীকে (জনি) আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে রনি চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁর ভাই মাহামুদুন চৌধুরীকে (জনি) আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউর রহমান আরও জানান, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে হরিণটানা থানার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন মোল্লা, সোনাডাঙ্গা থানার সন্ত্রাসী রনি শেখ ওরফে কাবা, গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্য নূর আলম ইসলাম ওরফে নূরুসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৪ এপ্রিল ও ৮ জুনও গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল যৌথ বাহিনী। সে সময় তাঁর বাবা ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দুই অভিযানে অস্ত্র ও মাদক বিক্রির ৩৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি ওয়ান শুটারগান, কয়েকটি গুলি এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কেএমপি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল নজরদারি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম বেশি আলোচিত। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন ‘বি-কোম্পানি’কে ঘিরে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে এ গ্রুপের কয়েকজন সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এসবের মধ্যেই গত বুধবার নগরের শেখপাড়ার একটি মার্কেটে চাঁদা দাবি করে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে গ্রেনেড বাবুর লোকজনের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন

পুলিশ সূত্র জানায়, খুলনা নগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যা মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ রনি চৌধুরীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০১০ সালের ১০ জুন জাহাঙ্গীর হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

মাহামুদুন চৌধুরীকে ঘিরেও বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে নিয়ে বিএনপির সমর্থক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ খুলনা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন) ভবন দখল করে ১৩ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাহামুদুন চৌধুরী সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট অস্থির পরিস্থিতিতে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ছাত্রসমাজের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ভাষ্য, এটি দখলের ঘটনা নয়; পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম সচল রাখতেই তখন ওই কমিটি করা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গণ–অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন