‘প্রত্যেকটা মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হোক’—ফেসবুকে এই পোস্টের পর প্রবাসীর ঘরে আগুন

আগুনপ্রতীকী ছবি

চাঁদপুরের কচুয়ায় এক প্রবাসীর বাড়ির একটি ঘরে আগুন লাগার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কচুয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইয়া গ্রামের মনগাজী বাড়ির বাসিন্দা আমেরিকাপ্রবাসী সায়েম হাসানের একটি ঘরে আগুন লাগে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রবাসী সায়েম হাসান দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘প্রত্যেকটা মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হোক’ শিরোনামে একটি মাদকবিরোধী পোস্ট দেন। এরপরই তাঁর বাড়ির একটি ফাঁকা ঘরে আগুন লাগে।

সায়েম হাসানের বাবা মো. মনির হোসেন আগুনের বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে বের হয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই ঘর ও ভেতরের মালামাল ভস্মীভূত হয়। আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থল থেকে একটি সচল লাইটার উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন।

প্রবাসীর পরিবারের অভিযোগ, এটি দুর্ঘটনা থেকে কোনো আগুন নয়; বরং মাদকবিরোধী পোস্ট এবং তৎপরতার প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কচুয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে চিহ্নিত অপরাধীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা টর্চলাইট বা ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে কচুয়া থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর ঘরে আগুন লাগার বিষয়ে কেউ এখনো থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরে এর সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত মাদক কারবারিদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।