মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো যুবকের পা
শরীয়তপুরে মাছ চুরি করার অপবাদে এক যুবককে গাছের ডাল (লাঠি) দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জেলা শহরের মৎস্যখামারি শাহীন মাদবর ও তাঁর লোকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবককে নির্যাতনের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (ভাইরাল)।
আহত ব্যক্তির নাম সেলিম পাইক (৩০)। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকার মৃত মতলব আলী পাইকের ছেলে। তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন মফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেটির এক্স–রে করে দেখা গেছে, তাঁর ডান পায়ের রানের হাড় ভেঙে গেছে। পায়ের হাড় দুই টুকরা হয়ে গেছে। হাড় জোড়া লাগানোর জন্য সার্জারি করতে হবে।
শাহীন মাদবর বলেন, ‘চার মাস আগে আমার খামারের মাছ চুরি করে সেলিম। তখন আমি তাকেসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করি। আমার ৬০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে আসামিরা। আবার রোববার ভোরে ছয়জন লোকসহ আমার পুকুরে জাল ফেলতে এসেছিল। আমার লোকজনকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে সেলিম ও তার লোকজন। তারা আমার এক পাহারাদারকে মেরে আহত করেছে। পরে আমার লোকজন ওদেরকে ধাওয়া দিলে ছয়জন পালিয়ে যায়, সেলিমকে ধরে ফেলে। তখন তাকে পেটানো হয়েছে।’
শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালং এলাকার বাসিন্দা শাহীন মাদবর (৩৮) মৎস্যখামারি এবং শরীয়তপুর আন্তজেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের খামার রয়েছে। গতকাল রোববার তাঁর ইকুরি এলাকার একটি খামারের ভেতরে প্রবেশ করেন ওই এলাকার সেলিম পাইক। এ সময় খামারের শ্রমিকেরা তাঁকে খামারের পানি থেকে উঠিয়ে এনে পেটান। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে আটকে রাখা হয়। খামারের মালিক শাহীন মাদবর সেখানে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই যুবককে পুনরায় আবার পেটান।
ওই যুবককে নির্যাতনের ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে দুই হাত ধরে মাছের খামারের মাঝখান থেকে তীরে নিয়ে আসেন। পরে এক ব্যক্তি হাত ধরে রাখেন এবং দুই ব্যক্তি মিলে গাছের ডাল দিয়ে তাঁকে পেটান। এ সময় সেলিম জোরে জোরে চিৎকার করছিলেন। ১৮ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিমের হাত রশি দিয়ে বাঁধা, তাঁর দুই পায়ে গাছের মোটা একটি ডাল দিয়ে সজোরে পেটাচ্ছেন মাছের খামারের মালিক শাহীন মাদবর। তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গতকাল সকালে সেলিম পাইককে পিটিয়ে পা ভেঙে ডামুড্যার ইকুরি এলাকার একটি স্থানে ফেলে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন অভিযুক্ত শাহীন মাদবর ও তাঁর লোকজন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। মাছচোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী আইনগত পদক্ষেপ নিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সেলিম পাইক বলেন, ‘আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়েছে। আমার পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।’