সড়কটি সংস্কারের দাবিতে কয়েক বছর ধরে সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ মে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা পোস্ট অফিস থেকে পল্লিমঙ্গল স্কুল পর্যন্ত সাতক্ষীরা নিউ কলেজ সড়কটি স্থানীয় সংসদ সদস্য, নাগরিক কমিটির নেতা ও স্থানীয় জনসাধারণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী পৌরসভার প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রাক্কলন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সড়ক সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কটি সংস্কার করা যাচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, এ সড়কের বেশির ভাগ স্থান থেকে পিচ উঠে গেছে। খোয়া বের হয়ে আছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। ফুড অফিসের সামনে কালভার্টটি ভেঙে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে কয়েকটি বস্তা ফেলা হয়েছে।

সাতক্ষীরা নিউ কলেজ সড়কের পাশে দুলাল হাসানের বাড়ি। তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এখন সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হেঁটে চলাচল করতে গিয়ে গর্তে পা পড়ে দুর্ঘটনায় পড়ছেন লোকজন।

এ সড়কে মোটরসাইকেলে করে দিনে কয়েকবার যাতায়াত করতে হয় শহরের তালতলা এলাকার হাসেম আলীকে। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেলে করে মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন সড়কের গর্তের মধ্যে পড়ে যান। এতে তিনি ও তাঁর মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ আল হাদী বলেন, কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। বছরের পর বছর ধরে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছেন। দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, নিউ কলেজ সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। বর্ষাকালে খোয়া দিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না।