আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফের হাবিবছড়া দক্ষিণ ঘাটে অভিযান চালিয়ে একটি সাম্পান নৌকাসহ সাড়ে ৭ কোটি টাকা সমমূল্যের ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান জব্দ করেছিল টেকনাফ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরের দিন ২৬ আগস্ট টেকনাফ মডেল থানায় আটজনকে পলাতক আসামি দেখিয়ে মামলা করেন অধিপ্তরের সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা। আসামিদের মধ্যে নৌকার মালিক টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়া গ্রামের আমির হামজার ছেলে মোহাম্মদ হারুন (২৮), ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. রশিদও (৩৫) রয়েছেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথ।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক ইলাহী শাহাজাহান নূরী প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিহারী নাথ ইচ্ছাকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেননি। তাতে ন্যায়বিচার পরাহত এবং বিচার বিলম্বিত হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। আদেশের অনুলিপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের পযবেক্ষণে বলা হয়, আইন অনুযায়ী মাদক মামলার প্রতিবেদন ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে দাখিল করা কথা। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যুৎ বিহারী নাথ চলতি বছরের (২০২২) ৩১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ১৫ কার্য দিবস সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ওই সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করে দ্বিতীয় দফায় তদন্তের জন্য আরও ১৫ দিন সময় চেয়ে গত ১৫ মার্চ আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদনও মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট তৃতীয় দফায় আরও এক মাস সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে আদালত সেই আবেদনটি গ্রহণ করেননি। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারা চরম অদক্ষতা ও অবহেলা হিসেবে গণ্য করে কেন তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—জানতে চেয়ে আদালত কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন তদন্ত কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিহারী নাথ।

জবাবে বিদ্যুৎ বিহারী নাথ বলেছিলেন, মামলাটি বড় মামলা এবং প্রকৃত মালিক ও মদদদাতা বা জোগানদাতা কারা, তা উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামি গ্রেপ্তার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া আগের মামলার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য পূর্বের কর্মস্থলে যাতায়াত, আরও অনেক মামলার তদন্তের কারণে সঠিক সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন জানান, মামলার অভিযুক্ত আসামি ইউপি সদস্য মো. রশিদ, নৌকার মালিক মো. হারুন, কামাল হোসেন, মো. সুলতান, মো. আবদুল্লাহসহ অন্য আসামিরা ঘটনার পর থেকে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও এ পযন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো মামলার অভিযোগপত্র থেকে আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার শর্তে টাকার লেনদেন হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার আছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিহারী নাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন