লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মোমো ও ক্যজলাং শ্রেণিকক্ষে পড়া দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দীন ওই দুজনকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে মোমো ও ক্যজলাংয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। দুজনের অবস্থা গুরুতর দেখে অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়িতে খবর দেয়। পরে পরিবারের লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মোমো ও ক্যজলাংকে বাসায় নেওয়া হয়েছে।

মোমো ছেনের বাবা চেন ছিং মং বলেন, ‘মোমো ছেন ও ক্যজলাংকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করার ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে উল্টো ধমক দিয়ে প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দীন বলেন, “মেরেছি কী হয়েছে? বেশি বাড়াবাড়ি করলে দুজনকে বিদ্যালয় থেকে রেড টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে।” এ ব্যাপারে ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

মোমো ও ক্যজলাংয়ের তিন সহপাঠী অভিযোগ করে বলে, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পরে নাসিমা আক্তারের মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে শামসুদ্দিনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল পঞ্চম শ্রেণির গণিতের ক্লাস নিচ্ছিলাম। এ সময় মোমো ও ক্যজলাং পড়া না পারায় ওদের বেত দিয়ে দুই-একটা বাড়ি দিয়েছি। রাগের মাথায় এই কাজ করেছি। এটা করা ঠিক হয়নি। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুদ্দিন বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এর আগে তিনি কখনো এভাবে শিক্ষার্থীদের মারধর করেননি বলে দাবি করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এমদাদ হোসাইন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আজ স্কুল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। আজকের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

টেকনাফের ইউএনও মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।