গতকাল রোববার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সামনে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ওই নবজাতকের জন্ম দেন। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া জেলার বোদা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাইলী বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজন নবজাতক এবং ওই নারীকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওই নারী হাসপাতাল থেকে চলে যান।

পরে জানা যায়, সড়কের পাশে সন্তান জন্ম দেওয়া ওই নারী পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের লাঠুয়াপাড়া এলাকার পাথরশ্রমিক মো. খতিবরের স্ত্রী রিনি বেগম (৪১)। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রতিদিন সকালবেলা তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতককে হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের নার্সরা নবজাতকের পরিচর্যা করছেন। এ ছাড়া নবজাতকের দেখভাল করার জন্য সেখানে অবস্থান করছেন বোন দাবি করা রুবিনা আক্তার নামের এক তরুণী।

রুবিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের পাশে সন্তান জন্ম দেওয়া রিনি বেগম তাঁর মা। তাঁর ৫ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুটি ভাই আছে। তাঁদের মা রিনি বেগম প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁকে বেঁধেও বাড়িতে রাখা যায় না। কোনো জটিলতা না থাকলে তাঁরা নবজাতককে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন রফিকুল হাসান বলেন, সড়কের পাশে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার ওজন কম থাকায় শ্বাসকষ্ট আছে। নবজাতকটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) মো. ফজলে রাব্বি বলেন, সড়কের পাশে জন্ম নেওয়া নবজাতককে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই নবজাতককে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ ছাড়া নবজাতকের স্বজন দাবি করে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বিষয়েও খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। নবজাতক সুস্থ হওয়ার পর তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।