এদিকে মাছ ভেসে ওঠার ঘটনায় তদন্তসহ পুরো বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভূঁইয়া সমন্বয় করছেন। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য বিভাগ আজ বিকেলে জরুরি সভা ডেকেছে।

ইউএনও শামীম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভাব্য তিনটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে নদীর পানিতে অক্সিজেন লেভেল নেমে যাওয়া, নদীতে পাট পচানো এবং নদীর দুই পাড়ের খেতে ছিটানো কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীতে যাওয়া। নদীতে ভেসে ওঠা মাছ না খাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজহাট, সদর উপজেলার বোয়ালমারী ও হাজরাহাটি এবং দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর ও চিতলা এলাকায় মরা ও আধমরা মাছ ভেসে উঠতে শুরু করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাছ ধরতে নদীতে নামেন। রাতে চার্জার লাইট, টর্চলাইট ও মুঠোফোনের আলো জ্বেলে অনেকেই জাল, মশারি, গামছা, খই চালা ঝুড়ি ও মুড়ি ভাজার ঝাঁজর নিয়ে মাছ ধরতে থাকেন। বড় বড় মাছ কোচ দিয়েও ধরতে দেখা গেছে।

default-image

আজ সকাল থেকে নদীতে মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়। হাজরাহাটি গ্রামের লাল মোহাম্মদ ১৫ কেজি ও ইমন হোসেন ১৭ কেজি পরিমাণ মাছ ধরেছেন বলে জানালেন।

জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারি পরিচালক রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মাথাভাঙ্গা নদীর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা অংশের ঘটনা তদন্তে ইউএনওর নির্দেশে একটি দল ইতিমধ্যে একটি দল তদন্ত শুরু করেছে। এর বাইরে জেলার সার্বিক পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে আজ বিকেলে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সভা থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার অন্যতম প্রধান শাখা নদী মাথাভাঙ্গার মোট দৈর্ঘ্য ১৩৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৭৫ কিলোমিটার পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলায়। চিত্রা, কুমার, নবগঙ্গা এই নদীর শাখা নদী। এই ৪টিসহ জেলার ১১টি নদীর পানির দূষণ রোধে এ বছর থেকে নদীতে পাট পচানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পাউবো থেকে প্রচারণাও চালানো হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকেই পাট পচানোর কারণে পানি দূষিত হচ্ছে বলে দাবি করছে পাউবো।

চুয়াডাঙ্গা পাউবোর নির্বাহী পরিচালক আরিফ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নদীর পানিদূষণ ও মাছের মড়ক নিয়ে মৎস্য বিভাগ চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন