দাফনের ১৪ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো কৃষক দল নেতার লাশ

লক্ষ্মীপুরে দাফনের ১৪ মাস পর কবর থেকে কৃষক দল নেতার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

লক্ষ্মীপুরে দাফনের প্রায় ১৪ মাস পর কবর থেকে এক কৃষক দল নেতার মরদেহ তোলা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যা মামলার তদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশনায় তাঁর মরদেহ তোলা হয়।

ওই কৃষক দল নেতার নাম শাহাদাত হোসেন। তিনি জেলা কৃষক দলের সাবেক সহসভাপতি ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। গত বছর ৭ মার্চ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ মোস্তানগর এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। তখন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এমন কথা ছড়িয়ে পড়লেও ৯ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী শেফালি বেগম বাদী হয়ে আদালতে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলার তদন্তে তাঁর লাশ তোলা হয়েছে।

জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ শেখ বলেন, গত বছর ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী মামলা করেছেন। এ মামলা তদন্তে মরদেহ উত্তোলন করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আবার দাফন করা হবে।

জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ওমানপ্রবাসী ছিলেন। ঘটনার প্রায় আট মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। একই এলাকার মো. মোহনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আমার স্বামী চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) কিনতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ১০ লাখ টাকাও নিয়েছিলেন। পরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

শেফালি বেগম বলেন, ‘মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনেরা জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা-পুলিশের কাছ থেকে আমার স্বামীর লাশ উদ্ধার করেন। তখন তাঁরা ভেবেছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তবে একপর্যায়ে আমার স্বামীর পেটে ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। আবার সঙ্গে নেওয়া ১০ লাখ টাকাও পাওয়া যায়নি। তখন আমরা বুঝতে পারি ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। শোকাহত থাকায় তখন মামলা করা হয়নি। পরে মামলা করা হয়েছে।’