নদীর চরে মাছ ধরছিলেন, মাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন
কক্সবাজারের উখিয়ায় নাফ নদীর চরে মাইন বিস্ফোরণে এক যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাছ ধরতে ওই যুবক চরটিতে গিয়েছিলেন। আজ সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীতে নাফ নদীর শূন্য রেখার কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ সালমান (২৭)। তিনি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ( ক্যাম্প-১০) জি-৯ ব্লকের বাসিন্দা নিজামত আলীর ছেলে। তাঁকে আহত অবস্থায় উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গতকালও উখিয়ার পার্শ্ববর্তী এলাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
মাইন বিস্ফোরণের রোহিঙ্গা যুবক আহত হওয়ার বিষয়টি পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে মাইন পুঁতে রেখেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে গিয়ে অনেকেই এসব মাইন বিস্ফোরণে আহত হচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেকেই সীমান্ত অতিক্রম করে ওপার থেকে মাদক আনতে যান। আবার মাছ-কাঁকড়া ধরতেও সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে অনেককে যেতে হয়। এসব মানুষই মূলত হতাহত হচ্ছেন।’
বিজিবি জানায়, মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে বালুখালী সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বে কাটাপাহাড় পোস্টসংলগ্ন এলাকায়। বালুখালী আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা আহমদ উল্লাহ বলেন, চরে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে ধরতে শূন্যরেখা থেকে মিয়ানমারের কিছুটা অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিলেন সালমান। এ সময় তিনি মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। এমএসএফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত হওয়ার বিষয়টি থানায় কেউ জানায়নি। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’