জামালপুরে মহাসড়কের পাশে হলুদে ছেয়েছে মাঠ, ছবি তুলতে দর্শনার্থীর ভিড়

মাঠজুড়ে শুধু হলুদ ফুল। অনেক দর্শনার্থী ছবি তুলতে ঢুকে পড়েন এসব খেতে। শুক্রবার বিকেলে জামালপুর শহরের কম্পপুর এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

শেষ বিকেলে কমলা রঙের আবহে সেজেছে প্রকৃতি। এতে মাঠজুড়ে ছড়ানো শর্ষে ফুলের হলুদ রং আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। যেদিকে চোখ যায়, হলুদ রঙে রঙিন চারপাশ। মাঘের শুরুতে এমন আবহে সেজেছে গ্রামীণ জনপদ। জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়কের পাশে হলুদগালিচার প্রান্তর দেখে যে কারোর চোখ জুড়িয়ে যায়। এবার নানা শঙ্কা কাটিয়ে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।

জামালপুর শহরের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই প্রকৃতিপ্রেমী নারী-পুরুষ ও শিশুরা সেখানে শর্ষের খেতে গিয়ে সেলফি ও ছবি তোলেন। কোনো কোনো যাত্রী যানবাহন থেকে নেমে সড়কের পাশে এমন হলুদ আবহে বুক ভরে শ্বাস নেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ঝিনাই নদীর তীরবর্তী কম্পপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে শর্ষের আবাদ করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। ফসলটির চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটিই তুলনামূলক কম। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হচ্ছে। তবে টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসলের কিছুটা ক্ষতির শঙ্কা আছে। কৃষকদের দাবি, এর চেয়ে বড় সমস্যা হলো খেতে দর্শনার্থীর আনাগোনা। অসচেতন দর্শনার্থীরা খেতের ভেতরে ঢুকে ছবি তোলেন। এতে ফসল নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে দুপুরের পর থেকে খেতের আশপাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা দর্শনার্থীদের সতর্ক করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা যায়, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়ক ঘেঁষে চলে গেছে রেললাইন। লাইনের পর থেকে যেদিকে চোখ যায়, আদিগন্ত হলুদ রঙে রঙিন। দর্শনার্থীরা মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে রেললাইনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সেখান থেকে অনেকেই শর্ষেখেতের মধ্যে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে সেলফি ও ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। একজন আরেকজনকে ছবি তুলে দিচ্ছেন। অনেকেই আবার ভিডিও ধারণ করছেন।

শর্ষে ফুলের হলুদগালিচায় সেলফি তুলছেন এক দম্পতি
ছবি: প্রথম আলো

শর্ষেখেতের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সেলফি ও ছবি তুলছিলেন জামালপুর শহরের জঙ্গপাড়া এলাকার আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী। আবদুর রহমান বলেন, ‘এলাকার অনেকের কাছে শুনেছি। দেখতে এসে মনে হলো, আমি যেন হঠাৎ কোনো রঙিন স্বপ্নের ভেতরে ঢুকে গেছি। হলুদ ফুলের সমুদ্র চোখ জুড়িয়ে দেয়, মনকে করে তোলে শান্ত।’

কম্পপুর এলাকায় সাত বিঘা জমিতে শর্ষে চাষ করেছেন কৃষক আবেদ আলী। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ জমি বিলের মতো হয়ে যায়। কারণ, মাঠের পূর্ব পাশ দিয়ে ঝিনাই নদ বয়ে গেছে। এ কারণে বর্ষায় শুধু আমন ধান চাষ করা সম্ভব হয়। অন্য সময় এখানে শর্ষের আবাদ করা হয়। প্রতিবছরই এই বিশাল মাঠে শর্ষে চাষ হয় এবং ফলনও ভালো হয়। তবে এবার শীত কিছুটা বেশি হওয়ায় শর্ষের ফুল কিছুটা নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত দর্শনার্থী খেতে প্রবেশ করায় কিছু ক্ষতি হচ্ছে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদরসহ জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৬ হাজার ২৭৮ হেক্টর জমিতে শর্ষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও গত বছরের তুলনায় আবাদ বেড়েছে। গত বছর ৪১ হাজার ১২৬ হেক্টর জমিতে শর্ষের চাষ হয়েছিল।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, টানা শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে শর্ষেগাছের কিছু ফুল ঝরে গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি খেতে ছত্রাকের সংক্রমণও দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলন কম বা বেশি হওয়ার বিষয়টি কাটার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সবকিছু অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দর্শনার্থীদের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, অসচেতনভাবে খেতের ভেতরে ঢোকায় অনেক সময় ফসলের ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।