রাজশাহীতে তরুণকে ছুরি মেরে হত্যা, এলাকাবাসীর বিক্ষোভের পর প্রধান অভিযুক্ত আটক
রাজশাহী নগরে পূর্বশত্রুতার জেরে এক তরুণকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে পবা রাইসমিলপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের পর প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত তরুণের নাম মো. সাব্বির (২১)। তিনি নগরের শাহ মখদুম থানার পবা রাইসমিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহিন ইসলামের ছেলে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে তাঁর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, একই মহল্লার বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের ছেলে মো. জাসন (২৫) সাব্বিরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, শাহ মখদুম থানা-পুলিশ পবা উপজেলার চর খিদিরপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।
শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। হত্যা মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জাসনের মা শিরিন বেগম তাঁর আধা কাঠা জমি সাব্বিরের বাবা শাহিন ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ আছে, জাসন এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর আগের দিন তিনি শাহিন ইসলামকে মারধর করেন। বুধবার দুপুরে সাব্বির নামাজ পড়তে বের হলে বাড়ির সামনে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহ মখদুম থানার সপুরা এলাকার টিটিসি–সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। তাঁরা টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে হত্যাকারীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসে পরে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত তরুণের বোন শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’