বজ্রপাতে ছয় জেলায় ১২ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতপ্রতীকী ছবি

দেশের ছয় জেলায় আজ শনিবার বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে পাঁচজন, কিশোরগঞ্জে একজন, রংপুরে দুইজন, নেত্রকোনার একজন, ময়মনসিংহে দুইজন ও হবিগঞ্জে একজন মারা গেছেন।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলায় দুজন, তাহিরপুরের একজন, জামালগঞ্জের একজন ও দিরাই উপজেলার একজন মারা যান।

ধর্মপাশায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন হবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৫)। হবিবুর উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা। রহমত উল্লাহর বাড়ি জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে। দুপুরে তাহিরপুর উপজেলায় আবুল কালাম (২৮) নামে একজন বজ্রপাতে মারা যান। তিনি উপজেলার জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা। জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান (৩২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাড়ি সদর ইউনিয়নের চানপুরে। দিরাই উপজেলায় কালিয়াকোটা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার আশনাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের গুনধর এলাকার বড় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে দুপুরে বজ্রপাতে কৃষক হলুদ মিয়ার (৩৭) মৃত্যু হয়েছে। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কলাবাগ গ্রামের বাসিন্দা।

করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা জানান, হলুদ মিয়া বাড়ির সামনের বড় হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রংপুর

দুপুরে রংপুরের মিঠাপুকুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের ছোট হযরতপুর মাঝিপাড়া গ্রামের মিলন রায় (৩০) ও রামেশ্বরপাড়া গ্রামের আবু তালেব (৫৫)।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, শনিবার সকালে পাশের ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরতে যান জেলেরা। দুপুরে হঠাৎ করে ওই এলাকায় পরপর কয়েকটি বজ্রপাত হয়। এতে সাতজন আহত হন। তাঁদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মিলন ও আবু তালেব মারা যান।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষক আলতু মিয়ার (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে আলতু মিয়া বাড়ির পাশের একটি খেতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। সাড়ে ১০টার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে হঠাৎ বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে না ফেরায় তাঁর ভাই নজরুল ইসলাম খোঁজ নিতে মাঠে যান। সেখানে গিয়ে তিনি আলতু মিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা দুইটার দিকে জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে তাঁরা মারা যান।

মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মুদিদোকানি রহমত আলী (৩০) ও গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মমতাজ আলী খান (৫৮)।

গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, রহমত আলী দুপুরে এক আত্মীয়ের ধানখেত দেখতে পূর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক সুনাম উদ্দিনের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওড়ে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রংপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)