কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ২৬ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এখনো সময় আছে। চারা নিয়ে অনেকেই অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে কৃষকেরা ধান লাগাতে শুরু করবেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

default-image

সরেজমিনে সদর উপজেলার উজলপুর খড়ের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক ও শ্রমিক ধানের চারা রোপণ করার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। তাঁদের জমির আলে শ্যালো ইঞ্জিন থেকে পানি বের হচ্ছে। আহাতুল্লাহ মণ্ডল নামের এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চাষবাস করে আর সংসার চালানো লাগবে না। যেভাবে ডিজেল, রাসায়নিক সারের দাম বাড়ছে, তাতে কৃষিকাজ করে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে না।’

পার্শ্ববর্তী একটি জমিতে কাজ করছিলেন কৃষক মিশকাত মিয়া, শাহারুল মিয়া ও আমজাদ হোসেন। প্রথম আলোর এ প্রতিবেদককে তাঁরা বলেন, সহগলপুর বিলের ১৭৫ বিঘার এ জমিতে এ সময় অনেকে আমন ধানের চাষ করেন। বর্ষা মৌসুমে বিলে শাপলার দেখা মেলে। তবে এবারে বিলে এক ফোঁটা পানি জমেনি। মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়েছে। এবার বিলের নিচু জমিতে ধান চাষের জন্য কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করছেন। তবে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে ধানের আবাদ করতে অনেক খরচ হচ্ছে। অতিমাত্রার খরচ করে ধানের আবাদ করে লোকসান হবে। এরপরও সারা বছর চালের চাহিদা পূরণ করার জন্য সবাই লোকসানের কথা চিন্তা করেও ধানের আবাদ শুরু করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলার উপপরিচালক সামছুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, রোপা আমন চাষ বৃষ্টিনির্ভর। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। তার ওপর বেশ কিছুদিন ধরে খরায় পুড়ছে আমনের বীজতলা। এমন পরিস্থিতিতে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন