পাঁচ দফা ভাঙনে নিঃস্ব জিলালের সংসার চলতে চায় না

জিলাল ব্যাপারী (৫৫) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রায় ১৬ বছর ধরে চায়ের দোকান চালান।

আগে প্রতিদিনের চা বিক্রির আয় দিয়ে তাঁর সংসার বেশ ভালোই চলত। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহন ও যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

জিলাল ব্যাপারীর পৈতৃক বসতবাড়ি ছিল গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার কুশাহাটা এলাকায়।

সেখানে জমি ছিল তাঁদের। প্রায় ২৫ বছর আগে ভাঙনে সব পদ্মায় চলে যায়। তাঁরা সেখান থেকে সরে পাশে যান। কয়েক বছর পর সেখানেও ভাঙন দেখা দেয়। এভাবে চারবার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে কুশাহাটা ছেড়ে ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট–সংলগ্ন ছাত্তার মেম্বার পাড়ায় আশ্রয় নেন।

এখানেও আরেক দফা ভাঙনের শিকার হয় তাঁর পরিবার। নিজস্ব ঘরবাড়ি, জমি কিছুই নেই।

পাঁচ দফা ভাঙনে জিলাল ব্যাপারী অনেকটা নিঃস্ব। অন্যের ৪ শতাংশ জমি বাৎসরিক ৪ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ছাত্তার মেম্বার পাড়ায় বসতি গড়েছেন। অর্থের অভাবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা তেমন করাতে পারেননি। কয়েক বছর আগে বড় মেয়েকে বিয়ে দেন। ছোট মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে বিয়ে করেছেন। সংসারে প্রতিদিন আট থেকে নয়জনের খাবারের জোগান দিতে হয় তাঁকে।

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে চায়ের দোকানে আলাপকালে জিলাল ব্যাপারী বলেন, স্থানীয় মধু খাঁর কাছ থেকে ২ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করছেন। পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘাট জমজমাট থাকত। যাত্রীদের পদচারণায় মুখর থাকত গোটা এলাকা। তাঁর চায়ের দোকানও থাকত জমজমাট। প্রতিদিন খরচ বাদে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ঘরে নিতেন। পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। দিন শেষে খরচ বাদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা থাকে। অথচ প্রতিদিন সংসার চালাতে তাঁর প্রয়োজন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

জিলাল ব্যাপারী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঘাটে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। যাত্রীদের আনাগোনা কমে গেছে। ভাঙনে ৩ মাস ধরে ৫ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ আছে। যাত্রীদের আনোগোনা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় তিনি বেকায়দায় আছেন। আগে এক মণ খড়ি কিনতেন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, এখন কিনতে হচ্ছে ২৮০ টাকা দিয়ে। এক কেজি চিনি ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, এখন ১১০ টাকা; চা–পাতা ছিল ৩৫০ টাকা কেজি, এখন ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। দুধের দামও বেশি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। দুধ চা বন্ধ করে দিয়ে প্রতি কাপ লাল চা পাঁচ টাকা করে বিক্রি করছি। তারপরও পোষাতে পারছি না। এ ছাড়া আগে ১ কেজি চাল কিনতাম ৫০ টাকায়, এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকা দিয়ে। এভাবে আটা, তরিতরকারিসহ সব জিনিসের দাম অনেক বেশি। খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’