বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার ও কবি সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবি কামাল চৌধুরী বলেন, কবিতা শেখার কোনো বিদ্যালয় নেই। কবিতার বিদ্যালয় তাঁদের হৃদয়, মস্তিষ্ক, সৃজনশীলতা, মনন ও অভিজ্ঞতা। কবি তাঁর আবেগ দিয়ে যে শব্দ ও বাক্য তৈরি করেন, সেটাই কবিতা। তবে সব কবিতা কিন্তু কবিতা নয়। বিষয়বস্তু ও শব্দশৈলীর মাধ্যমে ১০০ বছর পরও কবিতাকে জীবন্ত রাখতে, নতুন পাঠকের কাছে তরতাজাভাবে উপস্থাপন করতে শব্দ রচনা করতে হবে। কবি সম্মেলন শুধু সৌহার্দ্য ও মহামিলন নয়, নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক ভাবনাচিন্তার বিনিময়, নিজেদের বোঝা, জানা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ সমুন্নত রাখার প্রয়াসও।

কবি কামাল চৌধুরী আরও বলেন, জাতিসত্তার দিক থেকে বাংলা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ভাষা। চীন ও আরব জাতিসত্তার পর বাঙালি জাতিসত্তার বৃহত্তম ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ছাড়াও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে বাংলা ভাষাভাষী লোকজন। বাংলা ভাষায় এখনো বিশ্বমানের কবিতাচর্চা হচ্ছে। তবে তাঁরা ভাষান্তরের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলের মতো বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে তুলে ধরতে পারছেন না।

তিন দিনব্যাপী কবি সম্মেলনে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের তিন শতাধিক কবি উপস্থিত থাকবেন উল্লেখ করে বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক বলেন, শুদ্ধ ও সৃজনশীল সাহিত্যচর্চায় বগুড়া লেখক চক্র ১৯৮৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে। ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কবি সম্মেলনে দুই বাংলার প্রথিতযশা কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা জমে উঠেছে।

কবি ইসলাম রফিক আরও বলেন, শনিবার কবি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। কাল বিভিন্ন পর্বে কবি আমিনুল ইসলাম, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মাহমুদ কামাল, লেখক চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফিরোজ আহমেদ, সাজাহান সাখিদার প্রমুখ কবি উপস্থিত থাকবেন। দিনের মধ্যভাগে লেখক চক্র পুরস্কার দেওয়া হবে।

কবি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল মমিন খান, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান, ভারতীয় কবি প্রাণজি বসাক, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার, প্রশিকা মানসিক উন্নয়নকেন্দ্রের চেয়ারম্যান রোকেয়া ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন কবি ও প্রাবন্ধিক বজলুল করিম বাহার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘কথা ও কবিতা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কবি ও প্রাবন্ধিক খৈয়াম কাদের। আলোচনায় অংশ নেন কবি গাজী লতিফ ছাড়াও এপার ও ওপার বাংলার একঝাঁক কবি। মধ্যাহ্নভোজের পর ‘সাহিত্য পত্রিকা ও ছোটকাগজের দ্বন্দ্ব: এপার বাংলা, ওপার বাংলা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছোটকাগজ নিসর্গ-এর সম্পাদক সরকার আশরাফ। আলোচনায় অংশ নেন ওপার বাংলার কবি অলোক বিশ্বাস, শান্তিময় মুখোপাধ্যায়, পুলিন রায়, সৈকত হাবিব, মানসী কীর্তনীয়া, সৌমিত বসু প্রমুখ।

কবির উপস্থিতিতে কবিতা আবৃত্তি পর্বে কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদের সভাপতিত্বে অংশ নেন ওপার ও এপার বাংলার আবৃত্তিকার নীহার রঞ্জন সেনগুপ্ত, ফুল্লরা মুখোপাধ্যায়, কুমল ভৌমিক, সুনীল শৈশব, আবদুল মোবিন, অলক পাল প্রমুখ। পুণ্ড্রনগরের গল্প শোনান কবি ও প্রাবন্ধিক শোয়েব শাহরিয়ার। এ ছাড়া দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন কবি ফরিদ আহমদ, শেলি সেনগুপ্তা, ফারুক মাহমুদসহ শতাধিক নবীন, প্রবীণ কবি।

উদ্বোধনী দিনে সাহিত্য আড্ডা, সেমিনার ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচজনকে লেখক চক্র পুরস্কার, ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও সম্মাননা দেওয়া হবে। এবার লেখক চক্র পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন কবিতায় মুজিব মেহদী, কথাসাহিত্যে প্রশান্ত হালদার, প্রবন্ধ সাহিত্যে সরদার আবদুল মান্নান, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনায় ‘মানুষ’ সম্পাদক শফিক সেলিম ও সাংবাদিকতায় আমজাদ হোসেন মিন্টু। এ ছাড়া লেখক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।