ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল, ‘এআই দিয়ে অস্ত্র লাগানো হয়েছে’ দাবি যুবকের
রাজবাড়ীতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক যুবকের একাধিক ছবি গত মঙ্গলবার থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পর থেকে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। যুবকের দাবি, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে ছবিতে অস্ত্র লাগানো হয়েছে।
ওই যুবকের নাম মো. চান্নু সরদার (২৭)। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম কালিতলা এলাকার বাসিন্দা।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চান্নু সরদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাকায় আছেন। ঢাকায় যাওয়ার আগে তাঁকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী খানের ছেলে শাহনেওয়াজ খানের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা যেত। অনেকের ধারণা, অস্ত্র হাতে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো কয়েক বছর আগের। তবে চান্নুর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান স্থানীয় লোকজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এসব অস্ত্র দিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবক নিজ এলাকাসহ পদ্মার চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে তাঁরা ওই যুবকদের নাম প্রকাশ করেননি। নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষা করে নামগুলো প্রশাসনের কাছে দেবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী খান জানান, সেনগ্রাম কালিতলা বাজারের টোল আদায় নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে তিন দিন আগে মাসুদ রানা নামের এক যুবকের মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলে প্রতিপক্ষ। বিষয়টি তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু একটি পক্ষ সন্তুষ্ট না হওয়ায় কয়েক বছর আগের খেলনা কোনো অস্ত্রের ছবি দিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছেন। আদৌ ওই অস্ত্রগুলো সত্য কি না, জানা নেই। তবে তাঁর ধারণা, ওই সব খেলনা অস্ত্র।
চান্নু সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি নিয়ে তিনি তাঁর নিজের ফেসবুক আইডিতে ১২ মে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সাধারণ মানুষকে এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হচ্ছে। বর্তমানে এআই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর থেকেই আমি কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকাতে আছি। একজনের সঙ্গে একজনের বন্ধুত্ব থাকতেই পারে। এর কারণে আমাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে একটি মহল। এআই প্রযুক্তি দিয়ে আমার হাতে ও মুখের মধ্যে অস্ত্র লাগিয়ে দিয়ে আমাকে হয়রানি করার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
অস্ত্রের ছবির বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার বলেন, ‘ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রের ছবিগুলো দুই দিন আগেই আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়েছে, অস্ত্রটি চীনের তৈরি পিস্তল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই যুবককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।’