শুক্রবার সন্ধ্যায় কে এস নজু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে মোসহাবের বাড়ি কোন দিকে জিজ্ঞেস করতেই পথচারী নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওকে সবাই হিশাম নামে চেনে। উফ্‌, ছেলেটা কেন বেড়াতে গেল। পরীক্ষা দিয়েই তার কানাডা চলে যাওয়ার কথা। আমাদের মোজাফফরের ছেলে সে।’

নাছির উদ্দিনের সঙ্গে কথা শেষ করতে না করতেই স্কুলের পাশে দাঁড়ানো প্রধান শিক্ষক মো. শফিউল আলমকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘হিশাম খুব ভালো ছেলে। পড়ালেখা সবকিছুতে সে ভালো ছিল। তার কাগজপত্র সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। পরীক্ষা শেষ হলেই কানাডায় মায়ের কাছে চলে যেত। যাওয়ার আগে বাবাহারা ছেলেটি মায়ের মুখও দেখতে পেল না।’

মোসহাবের পরিবারের সবাই কানাডায় থাকলেও চাচা আলী আকবরের কাছে থাকত সে। আলী আকবর প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাইয়ের ছেলে হলেও সে আমার নিজের ছেলের চেয়ে বেশি। আমার সঙ্গে থাকত সারাক্ষণ। মা, ভাই, বোন কেউ না থাকলেও কখনো উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করেনি। তার সবকিছু ছিল গোছানো। এসএসি পরীক্ষা শেষ হলেই মায়ের কাছে চলে যেত। এখন তার মাকে কী জবাব দিব।’

মোসহাবের বন্ধু মো. শাহেদ বলে, ওর মতো বন্ধু হয় না। পড়ালেখায় যেমন, মানবিকতায়ও তেমন। ছিল না কোনো অহংকার। সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেত। তাকে ভুলে থাকা কষ্টকর। এভাবে তার মৃত্যু হবে কখনো ভাবিনি।

মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন অন্তত পাঁচজন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে চালক ও তাঁর সহকারী ছাড়া সবাই হাটহাজারীর ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষক। তাঁদের সবার বাড়ি খন্দকিয়া গ্রামে। তাঁরা মিরসরাইয়ে ঝরনা দেখতে যাচ্ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল, মোহাম্মদ আসিফ ও সাজ্জাদ হোসেন এবং মাইক্রোবাসচালক গোলাম মোস্তফা (২৬)।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন