সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) জামালপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় ট্রেন চলাচলের কারণে জামালপুর শহরের প্রধান সড়কের রেলগেটপাড় এলাকায় নিত্যদিন যানজট লাগে। জনদুর্ভোগ দূর করার জন্য নেওয়া রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। এই প্রকল্পে ৭৮০ মিটার ওভারপাসসহ দুই পাশে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকি ৩৫৯ কোটি টাকা এই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের গেটপাড় থেকে ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ১২টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি পিলারের মাঝখানের ৫২টি গার্ডারের মধ্যে ৪৭টির নির্মাণ শেষ হয়েছে। গার্ডারের ওপরের ১৩টি ছাদের মধ্যে আটটির কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাশের কোনো সড়কের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। প্রধান সড়কে বড় বড় গর্ত আর কাদামাটিতে একাকার। আশপাশে যানজট লেগে আছে। ওভারপাস নির্মাণের জায়গা রেখে দুই পাশ দিয়ে ছোট্ট সড়কে যানবাহন চলাচল করছে খুব ধীরগতিতে। এ অবস্থায় সড়কের মধ্যে বালু, পাথর, ইট রাখা হয়েছে।

জামালপুর শহরের গেটপাড় বাণিজ্যিক এলাকা। বেহাল সড়কের কারণে ভুগছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ছয় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছে। জাহেদা শফির মহিলা কলেজের সামনে থেকে লম্বাগাছ পর্যন্ত সড়ক বেহাল। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যায়। সেই পানির আর নেমে যাওয়ার পথ নেই। সব সময় যানজট লেগেই থাকে। ফলে এই এলাকায় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ এখন সহজেই আসতে চান না। এ জন্য তাঁরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ধীরগতির কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা। সওজের উদাসীনতাকেও দায়ী করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জামালপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল হোসেন বলেন, ১৫ থেকে ২৫ লাখ পর্যন্ত জামানত ও দোকানভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। কিন্তু এই ওভারপাসের কারণে সব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গেটপাড়ের নাম শুনলেই কেউ আসতে চান না। দ্রুত ওভারপাস নির্মাণের জন্য ব্যবসায়ীরা বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

সওজ জামালপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, তমা কনস্ট্রাকশন, মেসার্স জামিল ইকবাল ও মেসার্স মইন উদ্দিন বাঁশি যৌথভাবে কাজটি পায়। ২০২০ সালের জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় তত্ত্বাবধায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, কাজে তাঁদের কোনো গাফিলতি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে সওজ জায়গা বুঝিয়ে দিতে পারছিল না। ফলে কাজের ধীরগতি ছিল। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। প্রকল্পের বেশির ভাগ ব্যয় বেড়েছে ভূমি অধিগ্রহণে। কাজের ক্ষেত্রে ব্যয় সামান্যই বেড়েছে। আগামী জুনের মধ্যে অবশ্যই কাজটি শেষ করা হবে।

ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি ছিল বলে জানিয়েছেন জামালপুরের সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুরো প্রকল্পের মধ্যে ৩৫৯ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় হয়েছে। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। প্রকল্পের মূল কাজ ওভারপাস। সেটার কাজ প্রায় শেষের দিকে। দুই পাশের সড়কের কোনো কাজ শুরু হয়নি। তবে আগামী জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

জামালপুর জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, পৌরবাসীর দুঃখের নাম ওভারপাস। ছয় বছর ধরে জনদুর্ভোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেও কাজের গতি হয়েছে নিম্নগামী। দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে বহুবার সামাজিক আন্দোলন হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। এই নিয়ে বহুবার রেজল্যুশনও হয়েছে। কিন্তু কাজের গতি বাড়েনি। এই সময়ের মধ্যে পদ্মাসহ বহু বড় বড় সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ৭৮০ মিটার ওভারপাস নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। কল্যাণের বদলে দুর্ভোগই বাড়িয়েছে এই ওভারপাস প্রকল্প।