৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান বলেন, বাজেট অনুযায়ী গ্রামের রাস্তাঘাট পাকা করেছেন। দিনে-রাতে যেকোনো সমস্যায় ওয়ার্ডবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সড়কবাতির প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় এই কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তাঁর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও আগের থেকে এখন অনেক ভালো।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী পরশুরাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর জাতীয় পার্টির সহসভাপতি আতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, এলাকাটি যখন ইউনিয়ন ছিল, তখন তিনি এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন। আর এখন সিটি হয়েছে। সিটির সব সুযোগ-সুবিধা যাতে ওয়ার্ডবাসী পান, এ জন্য তাঁর সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। অসমাপ্ত সড়কবাতি বাস্তবায়নেও কাজ করবেন।

চব্বিশহাজারি, কোবারু, বুড়িরহাট, বাহাদুর সিংহ, মাস্টারপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত ৬ নম্বর ওয়ার্ড। শহর থেকে বুড়িরহাট যাওয়ার সড়কটি পাকা হলেও চব্বিশহাজারির পূর্ব প্রান্তে পাড়া–মহল্লার ভেতরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো এখনো পাকা হয়নি। নবদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে বুড়িরহাট যাওয়ার আরেকটি সড়কও বেহাল। এই সড়কে অটোরিকশা যেতে চায় না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নেই। বুড়িরহাট থেকে হাজিরহাট সড়কটির কিছু স্থানের অবস্থা এবড়োখেবড়ো। এই সড়কেও এক বছর আগে শুধু বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক তার ও বাতি লাগানোর কোনো উদ্যোগ নেই।

বুড়িরহাটের ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন হওয়ার ১০ বছর পরও এসব বর্ধিত এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। এখনো চারপাশে আবাদি জমি। মনের সান্ত্বনা যে তাঁরা সিটির বাসিন্দা।

এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাধ্যমতো ওয়ার্ডের উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন। সড়কবাতিও কিছু এলাকায় আছে। কিছু এলাকায় খুঁটি বসানো হলেও বাতি নেই। সড়কের কিছু কাজ চলমান। পুনরায় নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবেন।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম মোকাররম বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নগরের অন্যতম বুড়িরহাট বর্ষাকালে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে যেন না হয়, সেটি গুরুত্বসহকারে দেখবেন। এই হাটের উন্নয়ন করা হবে। গরু–ছাগল কেনাবেচার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতে ভোগান্তি না হয়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

আমাশু, কুকরুল, কাইমাগিলি, বিনোদ, বালাকুমার, নীলকণ্ঠ, ভগি, ধাপ এলাকা নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড। অন্য ওয়ার্ড থেকে এ ওয়ার্ডের সড়কগুলোর অবস্থা কিছুটা ভালো। একটি সড়কের কাজ চলছে। দীর্ঘ বছরেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়নি। আমাশু এলাকার বাসিন্দা সংস্কৃতিকর্মী মাহমুদ নাসির বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগের থেকে এখন ভালো অবস্থা। বাজার বসছে। ঘর থেকে বেরোলেই কেনাকাটা করতে পাওয়া যায়। জরুরি ওষুধও মেলে। যেটি আগে ছিল না। তবে সড়কবাতি অপর্যাপ্ত।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারাধন চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০-২২ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তবে বর্ধিত এলাকা হলেও কিছু কিছু এলাকায় নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে। বসতবাড়ির চাহিদা অনুযায়ী নর্দমাও নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তা পাকা করবেন। রাতের বেলা চলাচল করতে যাতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণেও তিনি সঠিক পদক্ষেপ নেবেন।