হামলা, মারধরের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেন এনসিপির নেতারা

হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনায় বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন দলটির নেতারা। বুধবার রাত ৯টার দিকের ছবিপ্রথম আলো

পুলিশের দফায় দফায় বাধার মুখে হবিগঞ্জ শহরে পৌঁছাতে পারেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবস্থান ছেড়ে হবিগঞ্জের বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দিয়ে চলে গেছেন তাঁরা। অভিযোগ অনুসারে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করে কি না, এখন সেই অপেক্ষায় আছেন এনসিপির নেতারা।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। চারজন নেতা উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মঙ্গলবারের ঘটনায় (এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর) লিখিত অভিযোগ দিয়ে ফিরে গেছেন। পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।

এরপরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় আরও কয়েকজন নেতা।

আমরা বুঝতে পারছি এই সরকার পুরনো পথেই স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে। অগণতান্ত্রিকভাবে তারা ক্ষমতায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা গণভোটের গণরায় মানে নাই। তারা স্বাধীন পুলিশ কমিশন করে নাই। অর্থাৎ তারা সন্ত্রাসনির্ভর একটি রাষ্ট্র তৈরি করতে চাচ্ছে, যেটা আগে ছিল সেটাকে তারা অব্যাহত রাখছে।
নাহিদ ইসলাম, আহ্বায়ক, এনসিপি

কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ দায়েরের সময় পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস। অভিযোগে বাদী করা হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেক রুবেলকে। অভিযোগটি সদর মডেল থানায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এতে আসামি হিসেবে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০০ জনকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জনের নাম জানা যায়নি।

হবিগঞ্জের ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় এনসিপির নেতাদের বাধা দেয় পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায়
ছবি: প্রথম আলো

অভিযোগ দায়েরের পর রাত পৌনে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নাহিদ বলেন, পুলিশ যদি তার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায়, শেখ হাসিনার সময় যে দলীয়করণ সেখান থেকে তাদের ইমেজ যদি উদ্ধার করতে চায়, তাহলে অবশ্যই এ ঘটনার যথাযথ বিচার হতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আজকে রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। আসামিরা কোনোভাবে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হলে ধরে নেওয়া হবে যে এখনো দেশে কিছু পরিমাণ হলেও ন্যায়বিচার আছে। আর না হলে ধরে নেওয়া হবে, এটি আবারও একটা মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি এই সরকার পুরনো পথেই সৈরাচারের পথেই হাঁটছে। অগণতান্ত্রিকভাবে তারা ক্ষমতায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা গণভোটের গণরায় মানে নাই। তারা স্বাধীন পুলিশ কমিশন করে নাই। অর্থাৎ তারা সন্ত্রাসনির্ভর একটি রাষ্ট্র তৈরি করতে চাচ্ছে, যেটা আগে ছিল সেটাকে তারা অব্যাহত রাখছে।’

পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
ছবি: প্রথম আলো

ব্রিফিং শেষে মৌলভীবাজারের দিকে চলে যান নাহিদ, সারজিসরা। এর আগে রাত সাড়ে আটটার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন এনসিপির নেতা–কর্মীরা। এরপর ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের দীর্ঘ যানজট কাটতে থাকে।

এর আগে আজ বিকেল চারটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রাকালে পুলিশ তাঁদের সামনে এগোতে নিরুৎসাহিত করে। তখন নেতা–কর্মীদের গাড়িবহর চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনেই অবস্থান নেয়। ব্যারিকেডের সামনে পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বাগ্‌বিতণ্ডা শেষে আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে রওনা হন এনসিপি নেতারা।