সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন বাস কাউন্টারে থাকা কর্মীরা। সৈয়দ আহমদ নামের একজন কর্মী বলেন, মালিকপক্ষ থেকে বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে তাঁদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই তাঁরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যে হারে তেলের দাম বেড়েছে, তাতে পুরোনো ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে পোষাবে না।’

সদর উপজেলার হাসননগর এলাকার বাসিন্দা মিজানুল হক বলেন, ‘সিলেট যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালের কাউন্টারে এসেই শুনি বাসভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাসভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আসলে সব চাপ তো যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপরে। মানুষ এখন বড় অসহায় অবস্থায় আছে।’ সবুজ আহমদ নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘মাত্র তো কয়দিন আগে একবার বাসভাড়া বাড়ল। এখন আবার বাড়িয়ে দেওয়া হলো। ইচ্ছামতো বাড়ায়। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই।’

সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা। শনিবার সকালে যে বাস ঢাকায় ছেড়ে গেছে সেটিতে যাত্রীরা ভাড়া দিয়েছেন ৭৫০ টাকা। অন্যান্য পরিবহনেও একইভাবে ১০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। তবে দূরপাল্লার বাস আজ সকাল থেকে কম যাচ্ছে।

জানতে চাইলে শ্যামলী পরিবহনের সুনামগঞ্জের ব্যবস্থাপক হোসেন আহমদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে কোনো বাস আসছে না। সুনামগঞ্জের পর্যটকদের কথা চিন্তা করে আজ সকালে একটি বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে। যেহেতু জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাই আমরা যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছি। ঢাকা থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এলে সেটি অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হবে।’

সুনামগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানো ছাড়া আমাদের তো আর কোনো উপায় নেই। তারপরও আমরা কম বাড়িয়েছি। সরকার জ্বালানির দাম পুনর্বিবেচনা করলে বাসভাড়াও কম–বেশি হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন