পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে সরকারি অনুদান দিয়ে সমাধিস্থলে একটি নলকূপ, একটি শৌচাগার ও একটি তুলসী মন্দির নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালে ১১৯তম বার্ষিক সমাবেশে তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন। তিনি সমাবেশে আখড়ার উন্নয়নকল্পে এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণাও দেন।

নগরঘাটার আগর আলী শাহ, মেহের আলী শাহ, কেশবপুরের দয়াল শাহ, সাতক্ষীরা সদরের থানা ঘাটার বাসিন্দা আবু সেলিম জানান, পূর্বপুরুষদের দেখাদেখি তাঁরাও আখড়া বা সমাধিস্থলে লাশ সমাধি করে থাকেন। এখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অংশ নেন বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল কাশীপুর তিন রাস্তার মোড়ে স্থানীয়

বাজার কমিটির সভাপতি পরিচয়ে আবদুল মজিদ ও তাঁর সহযোগী রুহুল আমিন আখড়ার জমি দখল করে সেখানে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা সেবায়েত মধুসূদন দাশ বাধা দেন। এ সময় মধুসূদনকে মারধর করা হয়। পরে সেখানে জোর করে তিনটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। এর দুই দিন পর বিষয়টি তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু

কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ৩ জুলাই আবদুল মজিদ ও রুহুল আমিনের উপস্থিতিতে সমাধিস্থলের জায়গায় আবারও দখল করে দক্ষিণ পাশে

আরও তিনটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাধা দেওয়ায় সেবায়েত মধুসূদন দাশ, সভাপতি চন্দ্র শেখর দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল কৃষ্ণ দাশকে মারধর করা হয়।

পাটকেলঘাটা থানায় অভিযোগ করা হলে উপপরিদর্শক মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতে থানার গোলঘরে সালিস হয়। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থানার ওসি কাঞ্চন রায় দখলকারীদের দুই দিনের মধ্যে দোকানঘর ভেঙে নেওয়ার নির্দেশ দেন। অথচ ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁরা এসব ঘর সরিয়ে নেননি।

অভিযোগের বিষয়ে আবদুল মজিদ ও রুহুল আমিন জানান, খাস জায়গা, তাই কয়েকজন মিলে রাস্তার পাশেই কয়েকটি দোকান তৈরি করে তাঁরা ব্যবসা করছেন।

জবরদখলকারীরা নির্দেশনা না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি কাঞ্চন রায়।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, সেখানকার বর্তমান অবস্থা তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন