একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনিদাস এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বোরো ধান চাষাবাদের সঙ্গে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। আর তাই ধান উৎপাদনেও খরচ বাড়ছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বোরো মৌসুমে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে বোরো উৎপাদনের খরচ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৯০০ টাকা। আর এ বছর তা দাঁড়াবে ১৮ হাজার ২৫০ টাকায়।

গত বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে সেচের খরচ ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতি কেজি বীজ ছিল ২০০ টাকা, এবার তা হয়েছে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া সার খরচ ২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে কীটনাশক ৬০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার টাকা, ধান রোপণের মজুরি ১ হাজার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক খরচ রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—পাঁচ জেলা নিয়ে রংপুর অঞ্চলে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, বোরো চাষে অতিরিক্ত সেচ লাগে। খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সেচ এবং নিয়ম মেনে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিন-চার দিন রংপুর সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা বোরো ধানের চারা রোপণ করতে ব্যস্ত। আবার কেউ খেত থেকে আলু তুলে বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। শীতকালে শ্রমিক সংকটও রয়েছে। শ্রমিকের মজুরিও বেশি।

রংপুর নগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালু গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, বোরো খেত তৈরি করা হচ্ছে। ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এবার সেচ খরচ বেশি পড়ছে। এ ছাড়া বীজসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে।

জাতীয় কৃষক সমিতি রংপুরের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো। অনেকে ধারদেনা করে ধান চাষ করছেন। কিন্তু মৌসুম শেষে ধানের উপযুক্ত দাম পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ জন্য সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন। ধান-চালের বাজার তদারকসহ সরকারিভাবে এর সংগ্রহ অভিযান জোরদার করতে হবে।