ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন
তারেক রহমানের নির্দেশে সরে যাচ্ছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আব্দুল খালেক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু দলীয় নির্দেশ অমান্য করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন দল থেকে বহিষ্কৃত বিএনপি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক। পরে তাঁকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে জোনায়েদ সাকির পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এরপর নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন আব্দুল খালেক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলের বাইরে গিয়ে তো আর পারা যাবে না। চেয়ারপারসন যখন ডেকেছেন, তাঁকে সম্মান করতেই হবে।’
দলীয় সূত্র জানায়, আব্দুল খালেককে ডেকে নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ হয়। এরপরই নির্বাচন থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।
জোনায়েদ সাকিসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ১০ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. মহসীন, এনসিপির মো. সফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইদউদ্দিন খান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের সফিকুর ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কে এম জাবির, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আবু নাসের এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পদ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি বিএনপি নেতা মো. সাইদুজ্জামান কামাল।
বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মেহেদী হাসান আব্দুল খালেককে সমর্থন দেন। উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আব্দুল খালেক ও মেহেদী হাসানের অনুসারী। ভোটের মাঠে তাঁদের উপস্থিতি জোনায়েদ সাকির সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ।
জানতে চাইলে আব্দুল খালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘চেয়ারপারসন (তারেক রহমান) ডেকেছিলেন। তিনি দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমি এলাকার অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। দলের সার্বিক বিষয় ও শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি তিনি বুঝিয়ে বলেছেন। এ জন্য দলের চেয়ারম্যান আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। দলের সবাইকে জড়ো করে বুঝিয়ে রাজি করার জন্য আমাকে বলেছেন। চেয়ারপারসন যখন আদেশ দেন, সেটি মানতে হবে। চেয়ারপারসনের কথা রাখতে হবে। কাজটি করতে হবে, তাঁকে সহায়তা করতে হবে।’
জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন কি না প্রশ্ন করলে এই প্রার্থী বলেন, ‘কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। তাঁকে জয়ী করতে হবে। আমি যদি নির্বাচনে থাকি, জোটের প্রার্থী একটি ভোটও পাবেন না।’ সরে দাঁড়াবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি এলাকায় যাচ্ছি। নেতা–কর্মীসহ লোকজনের সঙ্গে কথা বলব। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করব। তাদের মতামত নিয়ে দেখি। দলের বাইরে গিয়ে তো আর পারা যাবে না। চেয়ারপারসন যখন ডেকেছেন, তাঁকে সম্মান করতেই হবে। আপনারা বিষয়টি জেনে যাবেন।’