মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহীর হাটে গিয়ে আম খেলেন, পছন্দ করলেন কোনটা

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট ঘুরে দেখেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে বানেশ্বর হাটেছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাটে গিয়ে পাঁচ জাতের আমের স্বাদ নিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাষ্ট্রদূত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় এই আমের হাটে যান। এ সময় রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন তাঁকে আমের বাজার ঘুরে দেখান এবং বিভিন্ন জাতের আমের বর্ণনা দেন।

মোশারফ হোসেন জানান, রাষ্ট্রদূতকে দোকানে দাঁড়িয়ে রাজশাহীর ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ কেটে খাওয়ানো হয়। এই পাঁচ জাতের আম খেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, তাঁর কাছে ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়া আম ভালো লেগেছে। তিনি এই দুটি জাতের আমের প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন এবং আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হাটে ঘুরে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম। তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি। কারণ, আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

রাষ্ট্রদূতকে বানেশ্বর হাটের দোকানে রাজশাহীর ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ কেটে খাওয়ানো হয়
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখা ও স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনা নেই। সেখানে সবচেয়ে তাজা, বৈচিত্র্যময় ও সেরা পণ্য দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের আম রপ্তানি প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত হিমায়িত আম বেশি পাওয়া যায়, যা শেক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া গেলেও রাজশাহীর মতো এত তাজা আম পাওয়া কঠিন।

আম রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে বাংলাদেশে কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, সারা বছর আম সহজলভ্য রাখতে এবং হিমায়িত আম রপ্তানি বাড়াতে উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা দরকার। এতে বাংলাদেশের আম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রপ্তানির সুযোগ আরও বাড়বে।