ঝালকাঠিতে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মো. স্বাধীন হাওলাদার
ছবি: প্রথম আলো

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে মো. স্বাধীন হাওলাদার (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বদনিকাঠি বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার স্বাধীন হাওলাদার উপজেলার বদনিকাঠি এলাকার মো. কামরুল হাওলাদারের ছেলে। তিনি ছবি ভাঙচুরের বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বর মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচন নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বদনিকাঠি বাজারে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মানিক সরদার ও মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মো. তাওহীদুল ইসলামের ভাই তরিকুল ইসলামের কথা–কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখন মানিক সরদার লোকজন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢুকে ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করে দেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সংসদ সদস্য আমির হোসেনের ছবি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বাধীনকে আটক করে। তিনি মানিক সরদারের সমর্থক।

ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় একটি মামলা করেছেন মঠবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে ফাঁসাতে মানিক সরদারের লোকজন কার্যালয়ে ঢুকে প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু ও সংসদ সদস্যের ছবি ভাঙচুর করেন। ছাত্রলীগের নেতা ও স্থানীয় লোকজন তাঁদের নিবৃত্ত করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে মানিক সরদার বলেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এ ঘটনা সাজানো হয়েছে।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় বলেন, ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় রাতেই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। আটক স্বাধীন হাওলাদারকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।