আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মোয়াজ্জেম হোসেন তখন চাকরিতে ছিলেন। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর (সচিব) কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধরের চেষ্টা ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দেন, অফিসের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডবের সৃষ্টি করেন, ফাইলপত্র বিনষ্ট করেন। একই সঙ্গে বোর্ডের উপপরিচালককে (হিসাব ও নিরীক্ষা) তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন আসামিরা।

অভিযোগটি নিয়ে একটি বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে। আবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআই) তদন্ত করেছে।

জানতে চাইলে মামলার আসামি উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মঞ্জুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা শুনেছেন। তবে তাঁরা আদালতের কোনো সমন পাননি। তিনি বলেন, অভিযোগটি নিয়ে একটি বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে। সেখানে অভিযোগ থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করেছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনেও তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়নি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক আবদুল মান্নানও আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এই মামলায় প্রায় ছয় মাস আগে তিনি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

বিভাগীয় তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব আইনজীবী ইয়াহিয়াও প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা তদন্তকালে বোর্ডের তৎকালীন সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিযোগের প্রমাণ পাননি।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর অভিযোগ যে সত্য, তা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কার্যালয়ের ওই দিনের সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেই সত্যতা মিলবে।

বাদীর আইনজীবী একরামুল হক জানান, নগরের রাজপাড়া থানার পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।