ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি দেশে প্রবেশ করে। পরে স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
আজ সকাল থেকেই সাজুর স্বজনেরা ভোমরা স্থলবন্দরে মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান দিপুসহ কয়েকজন স্বজন অপেক্ষা করছেন। তখন জানা যায়, কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কপথে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ইমিগ্রেশন এলাকায় পৌঁছায়।
ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করতে কিছুটা সময় নিয়েছে। তারা দুপুর ১২টার দিকে আমাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। এরপর ১৫ মিনিটের মধ্যে আমরা পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করি।’
আমি ভারতের উত্তরাখণ্ডে দাদা-দাদির কাছে ছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার ট্রেনে করে কলকাতায় পৌঁছাই। তখন মায়ের মরদেহ কলকাতার মর্গে ছিল। পরে বাবাও কলকাতায় পৌঁছান। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে সৎকার সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দের সঙ্গে। তিনি জানান, নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠাতে উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
ওই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের একজন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার। তাঁর পরিবার মরদেহটি গতকাল শুক্রবার ভারতে সৎকার করেছে জানিয়ে ওমর ফারুক আকন্দ বলেন, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য উপহাইকমিশনের কাছে নেই।
১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে ৯ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতী সরকার ছাড়াও কুষ্টিয়ার চারজন ও ঢাকার একজন আছেন। পাঁচজনের মরদেহ আজ যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা আছে।
সাজুর মরদেহ গ্রহণ করতে ভোমরা স্থলবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছোট ভাই দিপু, ফুফাতো ভাই উজ্জ্বল, মিথুনসহ স্বজনেরা। বড় ভাই সাহেব সরদার ভোমরায় যাননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন।
রেবতীর ছেলে অনিক সরকার বলেন, ‘আমি ভারতের উত্তরাখণ্ডে দাদা-দাদির কাছে ছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার ট্রেনে করে কলকাতায় পৌঁছাই। তখন মায়ের মরদেহ কলকাতার মর্গে ছিল। পরে বাবাও কলকাতায় পৌঁছান। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে সৎকার সম্পন্ন হয়।’