নির্যাতনের শিকার নাইম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে গুঞ্জুরাহাট এলাকা থেকে দেলোয়ার, তাঁর ছেলে মুন্নাসহ চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে স্থানীয় ঝাড়গাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে সারা রাত মারধর করেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আখানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বিপ্লব ঘটনাটি তাঁর (নাইম) বাবাকে জানান। তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। দেলোয়ারের কাছ থেকে কোনো টাকা ধার নেননি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ছেলে মোহাম্মদ মুন্না প্রথম আলোকে বলেন, বছরখানেক আগে তাঁর বাবা নাইমকে ৪৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা পরিশোধ করছিলেন না নাইম। কয়েক দফা তাগাদা দেওয়ার পর টাকা না পেয়ে তাঁকে আটকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যকেও জানানো হয়। তবে নাইমকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

আখানগর ইউপির চেয়ারম্যান রোমান বাদশা প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতেই তাঁরা বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছিলেন। টাকা ধার নেওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকায় তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় এরপর কী হয়েছে খোঁজ নিতে পারেননি। আজ জানতে পারেন, তাঁরা ছেলেটিকে বিদ্যালয়ে আটকে রেখেছিলেন।

তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় আজ বিকেল পাঁচটার দিকে রুহিয়া থানায় নাইমের বাবা তহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মুন্না ও রাজিউর রহমান নামের তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করে। তাকে দেলোয়ার কোন স্বার্থে এতগুলো টাকা ধার দেবে? বিষয়টা সন্দেহজনক।’

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন