আমরা চেষ্টা করি সব শিক্ষার্থী যাতে পড়াশোনার মধ্যে থাকে 

মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজ এখন জেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বর্তমানে এই কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৬। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে কলেজটি। এইচএসসিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করার কারণ কী, এ নিয়ে কলেজের উদ্যোক্তা ও পরিচালক (প্রশাসন) হারুন অর রশিদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদৎ হোসেন

প্রথম আলো:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের ধারাবাহিক সাফল্যের মূল কারণগুলো কী?

হারুন অর রশিদ: নিয়মিত পাঠদান, কঠোর নজরদারি, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমই আমাদের কলেজের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে থাকে, সেই চেষ্টা থাকে আমাদের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টাই আমাদের ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম কারণ।

প্রথম আলো:

পাঠদানের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষত্ব আছে কি?

হারুন অর রশিদ: আমাদের লক্ষ্য শুধু সিলেবাস শেষ করা নয়, বরং শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝে শিখছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি মাসিক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নজর দেওয়াসহ বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করি আমরা। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়াও শিক্ষকদের রুটিনে পরিণত হয়েছে। এ কলেজের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। অভিভাবক সমাবেশ করি আমরা। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়লে দ্রুত তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়। আমরা মনে করি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সক্ষমতা আলাদা; তাই তাদের সেই অনুযায়ী পরিচর্যা করা। আবার কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য অভিভাবকদের ফুলেল শুভেচ্ছাসহ শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হয়।

প্রথম আলো:

শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভাবনা কিংবা ভবিষ্যতে তাঁরা কী করবেন, সে রকম দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে কি?

হারুন অর রশিদ: একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে আমরা উৎসাহ দিই, সহযোগিতা করি। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর বিশেষ একটি কাজ করছি, সেটি হলো বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা এখানে নিয়ে আসি। তাঁরা প্রতিবছর বিশেষ ক্লাস নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বিষয় নির্বাচন ও ক্যারিয়ার নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তাঁরা।

 আরেকটি কথা, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়ন, তদারকি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিষয়ে পৃথকভাবে খোঁজখবর রাখা, বিশেষ ও ব্যবহারিক ক্লাসের ব্যবস্থা রাখাসহ সৃজনশীলতা বিকাশের বিষয়টিকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই।

প্রথম আলো:

আগামী দিনে ইউনাইটেড কলেজকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

হারুন অর রশিদ: আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা নয়, বরং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের আরও এগিয়ে নেওয়া। শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমরা আরও কাজ করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনাইটেড কলেজ ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।