জেলা পর্যায়ের সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা একাডেমি দুদিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছে। কক্সবাজারের সাহিত্য মেলা বাস্তবায়ন করছে জেলা প্রশাসন। সকাল সাড়ে ১০টায় বেলুন উড়িয়ে সাহিত্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এরপর কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টের কাছে অবস্থিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম খালিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এই সাহিত্য মেলা করা হবে। সাহিত্যকে পাকা দালানের ভেতর আবদ্ধ করে রাখলে চলবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, কক্সবাজারের দুই সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার ও কানিজ ফাতেমা আহমেদ, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির পরিচালক নুরুন্নাহার খানম।

জেলা সাহিত্য মেলা উদ্‌যাপনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কক্সবাজার জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম প্রমুখ।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কক্সবাজারের প্রাচীন নাম ‘দরিয়ানগর’–এর ইতিকথা তুলে ধরে বলেন, সাহিত্যকে গণমুখী করার কথা বলে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সাহিত্য হতে হবে মানুষের জন্য। স্থানীয় সাহিত্যিকদের কেন্দ্রীয় সাহিত্যে একীভূত করতে জেলায় জেলায় সাহিত্য মেলার আয়োজন চলছে। এক বছরের মধ্যে দেশের সব জেলায় এই সাহিত্য মেলা সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক।

কক্সবাজারের ঝিমিয়ে পড়া সাহিত্য-সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি হল দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে কক্সবাজার জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, গত ২০ বছর ধরে পাবলিক লাইব্রেরিটি পড়ে আছে। সংস্কারের নামে জেলার প্রাচীন এই পাঠাগার ফেলে রাখা হয়েছে। এতে লাইব্রেরির হাজারো প্রাচীন দলিল ও বইপুস্তক নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম সংস্কৃতি-সাহিত্য বিমুখ হয়ে পড়ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছেন শত শত কবি-সাহিত্যিক ও লেখক। তাঁদের সাহিত্যকর্ম সাধারণ মানুষের সামনে তুলে আনাই হচ্ছে এই সাহিত্য মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আলোচনার শেষে শুরু হয় বাউলসংগীত পরিবেশন। আজ রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে কবিদের সাহিত্যপাঠ, স্বরচিত কবিতা, ছড়া, কথাসাহিত্য ও নাটক পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কেন্দ্রের বাইরে চলা বইমেলা খোলা থাকবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

আগামীকাল শুক্রবার মেলার দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টায় শুরু হবে লেখক কর্মশালা। কর্মশালায় জেলার প্রায় ২০০ লেখক, কবি–সাহিত্যিক অংশ নেবেন। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কক্সবাজার শব্দায়ন আবৃত্তি একাডেমির পরিচালক জসীম উদ্দিন, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সাইমন জাকারিয়া ও কবি ফারহান ইশরাক। সন্ধ্যায় শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন