স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের হুমকির মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
রাজশাহী নগরের বড়কুঠি এলাকার পদ্মা গার্ডেনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মনিরুজ্জামান শান্তর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এই কর্মসূচির আয়োজন করে নগর স্বেচ্ছাসেবক দল। এতে ওই নেতার পক্ষে এলাকাবাসীরাও অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক সৈকত পারভেজসহ সাংগঠনিক থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতা–কর্মীরা ঘটনাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। বক্তারা তাঁকে নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর চরিত্র নিয়েও বিষোদ্গার করেন।
মানববন্ধনে কয়েকজন বক্তা মামলা করা নারীকে ‘মাদকসেবী’, ‘পাগল’ ও ‘ছাত্রলীগকর্মী’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের ভাষ্য, মনিরুজ্জামান শান্তর বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা মামলা করেছে। মামলার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারেরও দাবিও জানান বক্তারা।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক সৈকত পারভেজ বলেন, ‘একটি মহল পরিকল্পিতভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দমানোর চেষ্টা করছে। আমরা সাংবাদিকদের অনুরোধ করছি, যাচাইবাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বড়কুঠি এলাকার পদ্মা গার্ডেনে একটি গ্যারেজে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে নগরের বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিককে মারধর করে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে দ্বিতীয় দফা হেনস্তা করা হয়।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাঁকে থানায় নেওয়া হলে সেখানে উপস্থিত বিএনপির কিছু রাজনৈতিক নেতা–কর্মী বিভিন্ন প্রশ্নে অপদস্থ করার চেষ্টা করেন। মামলা করতে চাইলে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলে পরদিন সকালে তাঁকে থানায় ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়।
মামলায় মনিরুজ্জামান ও মো. শুভকে (৩২) এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান এর আগেও একটি পূজামণ্ডপে হামলার মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান শান্ত বলেন, গ্যারেজে একটি সাধারণ তর্কবিতর্কের ঘটনাকে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে কারও সঙ্গে অশালীন আচরণ হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে বিভিন্নভাবে ট্যাগিং করা হচ্ছে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় সেই পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। আমার ফেসবুক দেখলেই বোঝা যাবে। আমি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নই। সব সময় ন্যায়ের পক্ষে থেকেছি। যখন যাঁকে ন্যায় মনে হয়েছে, তাঁর পক্ষেই কথা বলেছি।’
ওই নারী শিক্ষার্থী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো পোস্ট ছড়িয়ে তাঁকে ‘মাদকসেবী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিগারেট নিয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়ে আমাকে নেশাখোর বানানো হচ্ছে। সেটি ছিল নিছক মজা করে দেওয়া পোস্ট। কেউ সিগারেট খেলেই মাদকসেবী হয় না। আসামি ও তাঁর অনুসারীরা ফেসবুকে নানাভাবে আমাকে হেয় করছে। নানা রকম হুমকিও দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
মামলার আসামিদের বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের পক্ষে মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা এ ধরনের কর্মসূচি করতেই পারেন। এতে পুলিশের কাজে কোনো সমস্যা হবে না।