সিলেটের তিনটি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, একটিতে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের তিনটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এসব আসনে শরিক তিনটি দলের প্রার্থীকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতের তিন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এদিকে একটি আসনে বিএনপির একজন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীও রয়েছেন।
গতকাল বুধবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম ওই চার প্রার্থীসহ সবাইকে প্রতীক বরাদ্দ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ৬টি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবাই গতকাল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।
সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে আবদুল হান্নান, সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে লোকমান আহমদ এবং সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে আনওয়ার হোসাইন খান। এসব আসনে যথাক্রমে জামায়াত জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজু এবং খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান।
অন্য ৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে হাবিবুর রহমান, সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে জয়নাল আবেদীন এবং সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (ফুটবল) তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুরগাছ)।
মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ ভোটাররা আমাকে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করেছেন। সবার সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছি। আমার জয় হবে ইনশা আল্লাহ।’
আসনটিতে অন্য দুই প্রার্থী হলেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান (দেয়ালঘড়ি) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের বিলাল উদ্দিন (হারিকেন)।