ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১ দলের অনেক নেতাকে হারানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় নগরের হালিমা খাতুন বিদ্যালয়েছবি: প্রথম আলাে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলের নেতাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপি করে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কারচুপি যে হয়েছে তার প্রত্যক্ষ উদাহরণ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, সারজিস আলম ও দিনাজপুরের আহাদ। তাঁদের ফলাফলে কারচুপি করে হারানো হয়েছে। এ ছাড়া ১১ দলের অনেক নেতাকে হারানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের হালিমা খাতুন বিদ্যালয়ে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এনসিপির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়া সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে জাতীয় সংসদে তাঁর দল ও জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, সরকার গঠন করা দলটি একটি শপথ নিয়েছে। তারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার গঠনের এক মাসও হয়নি, কিন্তু আমরা দেখছি দেশ আজ কোন দিকে যাচ্ছে। আজকে বাংলাদেশ ব্যাংকে মব সৃষ্টি করে ব্যাংকটি দখলের চেষ্টা হচ্ছে। ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুদকের মতো একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এমন একটা দেশের দিকে যাচ্ছি, যেখানে চাঁদাবাজকে আপনি চাঁদাবাজ বলতে পারবেন না। চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হবে। সেই পুরোনো কায়দা, সেই পুরোনো সিস্টেম। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, সেই পুরোনো কায়দা, সিস্টেম কিংবা আচরণ করে লাভ নেই। হামলা, মামলা, জুলুম উপেক্ষা করেই আমরা গণ–অভ্যুত্থান করেছি।’

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক জানান, দেশের জনগণ সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় দিয়েছে; কিন্তু এই সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন না করার নানা ফন্দি আটছে। তারা গণভোটের বৈধতাকে আদালতে নিয়ে গিয়ে গণভোট ও আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠন না হলে নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের আবারও রাস্তায় নামতে হবে। সে জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি ও সংস্কারবিরোধীদের বিরুদ্ধে আবারও লড়াইয়ে শামিল হব।’

দেশে জ্বালানি–সংকটের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা পাম্পে গেল পেট্রল পাবেন না; কিন্তু সরকারি দলের লোকেরা, সরকারি কর্মকর্তারা ঠিকই পায়। সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পায় না। আমরা বিভাগীয় শহরে সফর করতে গিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না।’

সরকার গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে পাল্টে দেওয়া হয়েছে। একজন দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিকে চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে সরকার জুলাই গণহত্যার বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম (আদীব), মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। বিএনপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা যদি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পথ থেকে সরে যান, তাহলে আপনাদের দেশের মানুষ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে, যেভাবে শেখ হাসিনাকে করেছে।’