এত শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ অভিভাবকেরও আগমন ঘটে। তাই এই সময় শহরকে পরীক্ষাকালীন চাপ বহন করতে হয়। এতে আবাসন, যাতায়াত, খাবারসহ প্রায় জিনিসের দাম বেড়ে যায় এখানে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে শহরের সব হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। এদিকে মেসগুলোয় ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকদের থাকতে গেলে প্রতি রাতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা গুনতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য রাজশাহী আসা এবং রাজশাহী থেকে ফেরার টিকিট নিয়ে এরই মধ্যে শুরু শুরু হয়ে গেছে হট্টগোল। ঢাকায় শিক্ষার্থীরা রেলপথে বসে বিক্ষোভও করেছেন। ইতিমধ্যে বাসের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি ও ট্রেনে বাড়তি কোচ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজশাহীর পথে বিভিন্ন জেলার সব কটি ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীর পথের ১১টি ট্রেনে এক বা একাধিক শোভন ও এসি চেয়ারের কোচ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা-রাজশাহীর পথের সিল্কসিটি, পদ্মা, ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি করে শোভন চেয়ারের কোচ লাগানো হবে। বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে থাকবে অতিরিক্ত তিনটি শোভন চেয়ারের কোচ। লালমণি এক্সপ্রেসে একটি এসি কোচ থাকবে, রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি শোভন আর একটি কেবিন যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এসে নাটোরে নামতে পারবেন। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে একটি এসি চেয়ার কোচ যুক্ত করা হবে। বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসে একটি এসি ও একটি শোভন চেয়ারের কোচ লাগানো হবে। কপোতাক্ষ ও মধুমতি এক্সপ্রেসে একটি করে শোভন চেয়ারের কোচ থাকবে। টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে দুটি শোভন চেয়ারের কোচ লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ট্রেনগুলোর সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছেন। এ ছাড়া ট্রেনগুলোয় বাড়তি কোচযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবক ট্রেনে করে এসে সহজেই পরীক্ষা দিতে পারবেন। তাঁদের দুর্ভোগ কমাতে তাঁরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন