সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোশারফের লাশ ১২ দিন পর এল দেশে

কফিনে করে গ্রামের বাড়িতে আনা হচ্ছে মোশারফ হোসেনের লাশ। আজ শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামেছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রবাসী মোশারফ হোসেনের (৩৮) লাশ আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দুইটার দিকে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নিহত মোশারফ হোসেন সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে তিনি সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকার একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে যান মোশারফ। সর্বশেষ দুই বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। তাঁর দুই ছেলে। মৃত্যুর আধা ঘণ্টা আগেও রাত আটটার দিকে বড় ছেলে মাহিমের (১৪) সঙ্গে তাঁর ভিডিও কলে কথা হয়। এ সময় ঈদের কেনাকাটার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিতে বলেন মোশারফ এবং ইফতারের পর টাকা পাঠানোর কথাও জানান। কিন্তু ইফতারের সময়ই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার শোকাহত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?’

আজ শুক্রবার সকাল থেকে মোশারফের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। সবাই তাঁর লাশের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়েছে এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে খাটিয়াও আনা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

লাশ দেখতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। আজ শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামে
ছবি: সংগৃহীত

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, ‘আমার ছেলেকে তো আর জীবিত দেখতে পেলাম না। তার লাশটা এসেছে, এটাই শান্তি।’

গজারিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে মোশারফ হোসেনের লাশ পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বেলা দুইটার দিকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।

সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো. সবুর রেজা লাশ গ্রহণ করতে মোশারফের স্বজনদের সঙ্গে ঢাকায় যান। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান রয়েছেন। মন্ত্রী মহোদয় মোশারফের দুই ছেলের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। দলীয়ভাবেও আমরা সব সময় ওই পরিবারের পাশে থাকব।’

আরও পড়ুন