প্রতিমন্ত্রী নুরুলের নাম করে খেয়াঘাট দখল: আদালতে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটের ইজারাদারের লোকজনকে মারধর করে ঘাট দখলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালীর আদালতে মামলার অভিযোগ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাইমুল ইসলাম।
আদালতের বিচারক নওরীন আহমেদ অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ হোসেন মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১৮ মার্চ একই ঘটনায় গলাচিপা থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি।
মামলার আরজিতে সোহেল আকন (৪০), গলাচিপা ছাত্র অধিকার পরিষদের তরিকুল ইসলামসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
১৭ মার্চ রাত ১০টার দিকে গলাচিপার হরিদেবপুর এলাকায় প্রভাবশালী একটি মহল খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপক দীপু সাহাসহ কয়েকজনকে মারধর করে ঘাট দখল করে নেয়। এ সময় ক্যাশ টেবিলে থাকা টোলের প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় সেনাবাহিনী ও থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও খেয়াঘাটটি দখলমুক্ত করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, দখলে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু দখলের সময় তাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের নাম ব্যবহার করেছেন।
হামলার শিকার খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপক দীপু সাহার অভিযোগ, সোহেল আকন ও তালেবের নেতৃত্বে শতাধিক লোক এসে তাঁদের মারধর করেন এবং টোলের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের ঘাট থেকে বের করে দেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা আর খেয়াঘাটে যাননি।
ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে বৈধভাবে খেয়াঘাটটির ইজারা পেয়েছেন, যার মেয়াদ আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত আছে। কিন্তু দখলকারীরা জোর করে ঘাট দখল করে টোল আদায় করছেন।
খেয়াঘাট দখলের নেতৃত্বে থাকা সোহেল আকনের ভাষ্য, ‘জনগণের স্বার্থে মন্ত্রী মহোদয় (নুরুল হক) খাস আদায়ের মাধ্যমে পাঁচ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।’ তাই স্থানীয় মাঝিরা সে অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছেন। খেয়াঘাট দখলের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কোনো নির্দেশেনা দিয়েছেন কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।
খেয়াঘাট দখলের বিষয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
খেয়াঘাট দখলের ঘটনার পরের দিন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক প্রথম আলোকে বলেছিলেন, খেয়াঘাট দখলকারী ব্যক্তিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর বিরোধিতা করেছেন। পরে আবার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাছে গেলেও তিনি তাঁদের অন্যায় আবদারকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে আইনের বাইরে কিছু না করতে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন।