বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া শালবন হতে সদর উপজেলা গৌরীপুর পর্যন্ত মোট ৭৪ কিলোমিটার পুনর্ভবা নদীর খননকাজ চলছে। ১০-১২ ফুট গভীরতায় খননকাজ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উলিপুর এলাকায় পুনর্ভবা নদীর পাড় ঘুরে দেখা যায়, বিস্তৃত আলুর খেত। সবুজ গাছগুলো ৮-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। কৃষক গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু ঢিবি করে দিয়েছেন। সেচের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, বালু উত্তোলনের জন্য নদীতে ছয়টি ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। ফসলের খেত নষ্ট করে খননযন্ত্র মেশিন দিয়ে চলছে পাড় বাঁধাইয়ের কাজ। পাড় বাঁধাই শেষ হলে বালু উত্তোলন শুরু হবে।

কৃষকেরা বলেন, আলু গাছের বয়স ৩০-৩৫ দিন। আর মাত্র ৩৫-৪০ দিন পরে কৃষক আগাম আলু উত্তোলন করে ঘরে তুলতে পারবেন। কিন্তু নদী খনন শুরু হলে বালু পড়বে আলুখেতে। এতে প্রায় ৩০০ একর জমির ফসলের ক্ষতি হবে। জমিতে এবার বিনা-৭ জাতের আলু লাগিয়েছেন তাঁরা। সবকিছু ঠিক থাকলে বিঘা প্রতি ১৪০ মণ পর্যন্ত আলু পাবেন। প্রতি বিঘায় খরচ পড়বে ৯০-৯৫ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি দেড় লাখ টাকার আলু বিক্রির সম্ভাবনাও দেখছেন তাঁরা। 

পাড় বাঁধাই শুরুর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মো. ইউসুফের। তিনি জানান, দুই মাস আগে সমিতি থেকে ৮৫ হাজার টাকা ঋণ তুলেছেন। দুই একর জমিতে আলু লাগিয়েছেন। পাড় বাঁধাইয়ের কারণে প্রায় পুরো খেত নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর। এখন ঋণ শোধ করার চিন্তা পেয়ে বসেছে তাঁকে।

মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘সকালে ঠিকাদারকে অনুরোধ করেছি। ফসলটা তুলতে এক মাসের সময় চেয়েছি। কিন্তু কোনো কথাই শুনল না। খননযন্ত্র যখন মাটিটা কাটছে, মনে হচ্ছে বুকের মধ্যে গিয়ে ধাক্কা লাগছে।’    

দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনিচুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁদের এখতিয়ারে নেই। তবে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে। 

দিনাজপুরে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিএর সহকারী প্রকৌশলী সামিউল করিম জানান, আপাতত যেখানে ফসল নেই, সেসব জায়গায় খননকাজ করা হবে।