স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের লোকজন বলেন, জাফর আলম সোমবার চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলায় হাজিরা দিয়ে বারবাকিয়া বাজারে যান। সেখান থেকে বাজার করে বাড়িতে ফেরার পথে পাহাড়িয়াখালীর ছনখোলা এলাকায় আট-নয়জন ব্যক্তি পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করে। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম জাফরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত বছরের ২৩ এপ্রিল রাতে পাহাড়ের আধিপত্য নিয়ে নেজাম বাহিনীর প্রধান নেজাম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় নিহত জাফর ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আসামি হন। সেই বিরোধের জের ধরে নেজাম উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার জাফরের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। দুই গ্রুপের মধ্যে মূলত পাহাড়ে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা, বালু উত্তোলন ও গাছ কাটা নিয়ে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

নিহত জাফর আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা আকতার হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, নেজাম বাহিনীর সদস্যরা তাঁর স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। প্রকাশ্যে ছনখোলা স্টেশনের কাছে তাঁর স্বামীকে আধা ঘণ্টা ধরে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে পিটিয়ে হত্যা করলেও কেউ বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি।

বর্তমানে জাফর আলমের দুই ছেলে মো. আলমগীর ও জাহাঙ্গীর আলম জেলহাজতে রয়েছেন। এর মধ্যে আলমগীরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতিসহ পাঁচটি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও বন আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। জাফর আলমের বাড়ি পাহাড়িয়াখালীর লোকালয়ে হলেও তিনি সংরক্ষিত বনের ভেতরে অবৈধ বসতি গড়ে তুলেছেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরহাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, রাত আটটার দিকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাফর আলমের লাশ পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি ফরহাদ আলী বলেন, জাফর আলমের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। তাঁকে কারা, কেন ও কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ের আধিপত্য নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে পিটিয়ে মেরেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন